1971 Bangladesh ১৯৭১ এম আর মুকুলের চরমপত্র

 1971 Bangladesh  ১৯৭১ এম আর মুকুলের চরমপত্র




Bangladesh
Bangladesh



যোগাযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন , স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্ত্র শুধুই ছিল এম আর মুকুলের চরমপত্র পাঠের জন্য

যেমন:

আপনাকে স্বাগতম! কি পোলারে বাঘে খাইলো? শ্যাষ। আইজ থাইক্যা বঙ্গাল মুলুকে মছুয়াগো রাজত্ব শ্যাষ। ঠাস্ কইয়্যা একটা আওয়াজ হইলো। কি হইলো? কি হইলো? ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পিঁয়াজী (নিয়াজী) সা’বে চেয়ার থনে চিত্তর হইয়া পইড়া গেছিলো। আট হাজার আষ্টশ’ চুরাশি দিন আগে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট তারিখ মুছলমান-মুছলমান ভাই-ভাই কইয়া, করাচী-লাহুর-পিন্ডির মছুয়া (গোঁফওয়ালা হানাদার বাহিনী) মহারাজরা বঙ্গাল মুলুকে যে রাজত্ব কায়েম করছিলা, আইজ তার খতম্ তারাবী হইয়া গেল। বাঙালি পোলাপান বিচ্চুরা দুইশ পঁইষট্টি দিন ধইরা বাঙাল মুলুকের ক্যাদো আর প্যাঁকের মাইদ্দে ওয়ার্ল্ড-এর বেস্ট পাইটিং ফোর্সগো পাইয়া, আরে বাড়িরে বাড়ি! ভোমা ভোমা সাইজের মছুয়াগুলো ঘঁৎ ঘঁৎ কইরা দম ফ্যালাইলো। ‘ইরাবতীতে জনম যার ইছামতীতে মরণ’।..... ২৫শা মার্চ তারিখে সেনাপতি ইয়াহিয়া খান বাঙালিগো বেশুমার মার্ডার করনের অর্ডার দিয়া কি চোট্পাট। জেনারেল টিক্কা খান হেই অর্ডার পাইয়া ৩০ লাখ বাঙালির খুন দিয়া গোসল করলো। তারপর, বঙ্গাল মুলুকের খাল-খন্দক, দরিয়া-পাহাড়, গেরাম-বন্দরের মাইদ্দে তৈরি হইলো বিচ্চু (মুক্তিবাহিনী)। ‘যেই রকম বুনোগুল, সেইরহক বাঘা তেঁতুল।’ গেরামের পোলাপান যেমতে কইর্যা বদমাইশ লোকের গতরের মাইদ্দে চোতরা পাতা ঘইস্যা দেয়, বিচ্চুগো হেই রকম কাম শুরু হইয়া গেল। হেই কাম বিগিন.....ঢাঁই-ই-ই-ই! কি হইলো কি হইলো? ঢাকার মতিঝিলে বিচ্চুগো কারবার হইলো।.... ঘেটাঘ্যাট, ঘেটাঘ্যাট। কি হইলো? কি হইলো? অংপুরের ভুরুঙ্গামারীতে ভোমা ভোমা সাইজের মছুয়ারা হালাক হইলো।


এরকমই তো ছিল সেদিনকার চরম পত্র । তাই বলা চলে চরমপত্রের আকারে সকল ধরনের কথাই তখন বলা হত ।


 মুক্তিযুদ্ধের সময় সকল সত্যিকার বাঙালিই যুদ্ধ করেছেন। একেকজন একেকভাবে। কেউ অস্ত্র দিয়ে কেউ অশ্রু দিয়ে, কেউ স্টেনগান নিয়ে, কেউ মাইক্রোফোন নিয়ে শব্দসৈনিক হয়ে, কেও সংবাদ আদান প্রদানে , কেও মুক্তি যুদ্ধাদেরে আশ্রয় দানে , আশ্রয় যারা দিয়েছেন ভোগান্তি তাদেরই বেশী গেছে, কারো ঘরবাড়ী পুড়েছে, কেও লাইন ধরে গুলি খেয়ে মরেছে সপরিবারে । তাই এ সকলেই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, সকলের লক্ষ্য ছিলো একটি পতাকা ও একটি দেশ, বাংলাদেশ। আর ১৬ ডিসেম্বরের পরে দেশ ত্যাগী নেতারা দেশে ফিরলেন বিজয়ের বেশে । হয়তবা তারা ব্যস্ত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে , থেকে নিরাপদে দুর দেশে ।


সেই সময়ের প্রেক্ষাপট দেখলে সম্ভবত এই সব বিষয় নিয়ে কেউ চিন্তা ভাবনা করতে পারে নাই; কিছু পরিস্থিতিতে চিন্তা শক্তি কাজ করে না এরকমও হতে পারে! ঘটে যাওয়া ঘটনাকে এনালাইসিস করা সহজ; কিন্তু ইহা যদি ধরা না পরে, অন্যভাবে আবার ঘটতে পারে।

দেশ স্বাধীন করেছেন এ দেশের গরীব সাধারণ জনগণ যাদের মধ্যে কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষ সহ ছিঁচকে চোর, ডাকাতদের সংখ্যাই বেশি। ধনীদের বেশিরভাগ সপরিবারে পাড়ি দিয়েছিল বিদেশে যাদের অনেকের পরিচয় আজ "মুক্তিযোদ্ধা"! বঙবীর কাদের সিদ্দিকীকে আজ ডাকা হয় 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী' হিসেবে আর মুরগি শাহরিয়ার কবির আজ 'সম্মুখ সমরের মুক্তিযোদ্ধা'!! ভারতের যারা মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিল তাদের আজ পুরস্কৃত করা হচ্ছে - ভালো কিন্তু এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা এখনও ভিক্ষা করে চলছে, টাকার অভাবে চিকিৎসা পায় না, অনেককে তো তাদের বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করছে চেতনাধারী লীগ সম্প্রদায়, আরও কত কাহিনী ..... সাধারণ মানুষ যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন শুধু সময়ের প্রয়োজনে, মধু খেয়েছে যুদ্ধের সময় রাজাকার গুলো আর যুদ্ধের পরে নেতারা।

                                                     ***********************
 



















1971 Bangladesh ১৯৭১ এম আর মুকুলের চরমপত্র


1971 Bangladesh ১৯৭১ এম আর মুকুলের চরমপত্র
1971 Bangladesh ১৯৭১ এম আর মুকুলের চরমপত্র




















Sheikh Mujibur Rahman







facebook
page
seo
google
blog
blogger
blogspot
Book
news
learn
press
media
find out
Literary Agents
literature
religion
economics
politics
world
bengali
bangladesh
dhaka
entertainment

Post a Comment

0 Comments