Merry Christmas!
চলুন যিশু সম্পর্কে কিছু অজানা কথা জেনে নিই।
মধ্যযুগের শেষ দিকে আর্থারিয়ান কিংবদন্তি অনুযায়ী যুবক যিশু ব্রিটেনে গিয়েছিলেন । সমসাময়িক অন্য থিয়োরি বলে, জীবনের ১২ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে কোনও এক সময়ে যিশু ভারতে এসেছিলেন ।
যিশু তথা খ্রিস্ট ধর্মে ভারতীয় প্রভাব নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে । তার মধ্যে অন্যতম লুই জাকোলিথের বই ‘লা বাইবেল দাঁ ল্যাঁদ’ । অর্থাৎ দ্য বাইবেল ইন দ্য ইন্ডিয়া ।
নিকোলাস নোটোভিচ, এই রাশিয়ান যুদ্ধ-সাংবাদিক ১৮৮৭ সালে গিয়েছিলেন লাদাখে । সেখানে হেমিস বৌদ্ধ মঠে তিনি জানতে পারেন Life of Saint Issa, Best of the Sons of Men সম্বন্ধে | ইসলামে আরবি ভাষায় যিশুকে ইসা বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
এর উপর ভিত্তি করে নিকোলাস বই লেখেন। ১৮৯৪ সালে ফরাসি ভাষায় সেই বই প্রকাশিত হয়। নাম,’ লা ভি ইনকনিউ দ্য জেসাস ক্রাইস্ট'(Unknown Life of Jesus Christ)। ইংরেজিতে যার অনুবাদ বের হয় Life of Saint Issa বলে।
যিশুর মৃত্যু নিয়েও আছে প্রশ্ন এবং দ্বন্দ্ব। অনেক মত বলে, যিশু কাশ্মীর অথবা রোমে মারা গিয়েছিলেন । Ahmadiyyas-এর প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গুলাম মনে করতেন, ১২০ বছর বয়সে কাশ্মীরে প্রয়াত হন যিশু । সেখানে তাঁর নাম ছিল ইউজ আসফ । অষ্টাদশ শতকের কাশ্মীরের সুফি কবি খাজা মহম্মদ আজম দিদামারিও উল্লেখ করেছেন এই ইউজ আসফের কথা । এবং এই আসফ নাকি একজন বিদেশি যুবরাজ ছিলেন। পশ্চিমের কিছু ভারতবিদ আবার বলেন, কাশ্মীর বা রোম নয়। যিশু প্রয়াত হয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধের প্রয়াণের শহর, কুশিনগরে।
ভারতে তখন চলছে কুষাণ যুগ। কাশ্মীরের জোজিলা গিরিপথের কাছে হেমিস বৌদ্ধ মঠে দেহত্যাগ করলেন পশ্চিম দেশীয় সাধক ঈশা। শ্রীনগরের কাছে "রোজাবাল", সেখানে তাঁকে সমাধি দেওয়া হয়। কাশ্মীরে সাধুসন্তদের সমাধিকে রোজাবাল বলা হয়। কাশ্মীরের অধিবাসীরা একজন প্রাচীন হিব্রুভাষী ইহুদি পুণ্যবান পুরুষের কথা বলে আসছে। তাঁর নাম উজ আসাফ (Yuz asaf) অর্থাৎ "Leader of Healed"। এই উজ আসাফই হলেন ঈশা। ঈশাই হলেন যীশু খৃষ্ট। কাশ্মীরে মুসলিম আগমনের পূর্বে বৌদ্ধ ও হিন্দুরা রোজাবাল দেখাশোনা করত। পরে পঞ্চদশ শতকে মুসলিম এক পীরকে রোজাবাল এ সমাহিত করা হয়। সেই পীরের নাম সৈয়দ নাসর-উদ-দিনিস ।
যীশুর জীবনের ১৩ থেকে ৩০ বছরের কথা বাইবেলে উল্লেখ নেই। খৃষ্টান দুনিয়া সযত্নে এড়িয়ে চলে ঐ নিয়ে চর্চা। কারণ হিসাবে মনে করা হয় যে, যীশুর উপর খৃষ্টান দুনিয়া তথা ভ্যাটিকানের একাধিপত্য থাকবে না সব প্রকাশ পেলে।
গবেষকদের মতে যীশুর শান্তি, অহিংসা ও প্রেমের বাণী হিন্দু ও বৌদ্ধ প্রভাবে প্লাবিত। মিশরের আলেকজেন্দ্রিয়া বৌদ্ধধর্ম চর্চার বড় কেন্দ্র ছিল। সেখানেই প্রথম বৌদ্ধ দর্শনের পাঠ নেন যীশু, পরবর্তীতে ভারতে।
Merry Christmas
Jesus
দুই বার ভারতে এসেছিলেন যীশু।
◆ প্রথম বার মিশর থেকে ভারতে এসেছিলেন বৈদিক, বৌদ্ধ ও আয়ুর্বেদ শিক্ষার জন্য। তক্ষশীলা সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা লাভ করেন।
◆ দ্বিতীয় বার এসেছিলেন ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর। বাইবেল অনুযায়ী যীশুকে ক্রশবিদ্ধ করা হয়েছিল শুক্রবার দুপুরে। তিন ঘন্টা পর অচেতন যীশুর দেহ ক্রশ থেকে নামিয়ে নিকটস্থ সমাধি গুহায় রাখা হয়। ক্রশবিদ্ধ হওয়ার পর ৬ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভব। যীশুও বেঁচে ছিলেন। সমাধি গুহা থেকে পালিয়ে জেরুজালেমের বাইরে কোথাও লুকিয়ে ছিলেন যীশু ও মেরি। তারপর ক্ষত সেরে ওঠার পর নাম বদলে ফেলে ছদ্মবেশ ধারণ করে কাফেলার সঙ্গে রেশম পথ ধরে পূর্ব পরিচিত ভারতবর্ষের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন যিশু। পন্ডিতদের ধারণা প্রথম শতকের মাঝামাঝি কাশ্মীরে পৌঁছান যীশু।
কিছু প্রমাণ :
● নিকোলাস নটোভিচ ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে বৌদ্ধধর্ম সম্বন্ধে জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে ভারতের কাশ্মীর আসেন এবং লাদাখের হেমিস মঠে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নটোভিচকে প্রাচীন তিব্বতিয় পান্ডুলিপির কথা বলেন, যাতে ইসা নামে এক পশ্চিমদেশীয় জ্যোর্তিময় পুরুষের কথা রয়েছে।
Merry Christmas
Jesus
নটোভিচ তিব্বতিয় পান্ডুলিপি অনুবাদ করেন এবং রাশিয়া ফিরে যান। যীশুর অজানা জীবনের কথা প্রকাশ হতে যাচ্ছে শুনে রুশ খ্রিষ্টান কট্টরপন্থিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। অবশেষে ১৮৯৪ সালে বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে The Unknown life of Jesus Christ বইটি প্রকাশিত হয়। বইটিতে নটোভিচ দাবি করেন যে হারানো বছর গুলোয় যীশু ভারতবর্ষে এসেছিলেন ও এই সময়ে তিনি বৈদিক দর্শন, বৌদ্ধ ধর্ম এবং আয়ুর্বেদ সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করেন।
● যীশুর রহস্য সন্ধানে লাদাখ যান স্বামী বিবেকানন্দের গুরুভাই পন্ডিতপ্রবর স্বামী অভেদানন্দ। হেমিস মঠে যীশু বিষয়ক তিব্বতি পান্ডুলিপি সচক্ষে দেখে বিস্মিত হন তিনি এবং তাঁর বই ‘কাশ্মীর ও তিব্বতী’ গ্রন্থে যীশু বিষয়ক তথ্যাদি সর্বমোট ২২৪ পঙতি বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেন।
● হেমিস মঠে তিব্বতীয় পান্ডুলিপিটি অনেকেই দেখেছেন। তাদের মধ্যে হেনরিয়েটা মেররিক অন্যতম। ইনি In the World's Attic নামে বইয়ের লেখিকা। ১৯২১ সালে মেররিক পান্ডুলিপিটি দেখেন। মেররিক তাঁর লিখেছেন, "লাদাখ -এর রাজধানী লেহ্তে কিংবদন্তীর যীশু ইসা নামে পরিচিত। এবং হেমিস মঠে রক্ষিত পনেরশ' বছরের পুরনো মূল্যবান নথিপত্রে যীশুর কথা কথা রয়েছে, যীশুর শিক্ষার কথা রয়েছে।
Merry Christmas
Jesus
● ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে মীর ইজ্জুৎউল্লাহ নামে একজন পারস্যবাসী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নির্দেশে মধ্য এশিয়া ও লাদাখ সফর করেন। Travels in Central Asia বইতে তিনি লিখেছেন: "তাহারা ধ্যানের নিমিত্ত তাহাদের প্রার্থনাগৃহে পরলোকগত সাধুসন্তের ভাস্কর্য সংরক্ষণ করে। এইসব ভাস্কর্যের কয়েকটি স্বর্গবাসী নবীর-যাহাকে যীশু খৃষ্ট বলিয়া প্রতীয়মান হয়।"
● কাশ্মীরের ইতিহাসের অন্যতম উৎস হল ‘রাজতরঙ্গিনী’। এটি রচিত হয় ১১৪৮ খ্রিস্টাব্দে। রাজতরঙ্গিনী গ্রন্থটিতে রয়েছে, "ইসানা নামক একজন মহৎ সন্ত ডাল হ্রদের তীরে ইসাবারে
বসবাস করিতেন। তাঁহার অসংখ্য ভক্ত ছিল।"
শ্রীনগরের কাছে রাজা শালিবাহনের সঙ্গে ইসা মহি-র সাক্ষাতের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। রাজা শালিবাহন-এর সময়কাল ৩৯ থেকে ৫০ সাল। শালিবাহন কুষাণ সাম্রাজ্যের কাশ্মীর অঞ্চলের শাসক ছিলেন।
এসব পুরনো তত্ত্বের পাশাপাশি গত নয়ের দশকে উঠে আসে আরও বেশ কিছু তত্ত্ব । বলা হয়, জেসাস এবং জুডাস ইসক্যারিয়টকে একসঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ করা হয় । জুডাস মারা গেলেও বেঁচে যান জেসাস। মেরি ম্যাগডালেনকে বিয়ে করে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে তিনি চলে যান রোমে।
১৯৯২-এ Man Barbara Thiering প্রচারিত এই মতের পাশাপাশি ১৯৯৫-এ Kenneth Hosking বলেন, ক্রুশবিদ্ধ জেসাস প্রাণে বেঁচে যান। তারপর কয়েক দশক বাদে তিনি ইহুদি বাহিনির নেতা হিসেবে মারা যান। এই বাহিনিই রোমানদের বিরুদ্ধে মাসাদার যুদ্ধ লড়ে পরাজিত হয়।
এভাবেই শতকের পর শতক ধরে যিশুকে নিয়ে বিস্তার লাভ করেছে গল্প-বিতর্ক ও মত-অমতের শাখাপ্রশাখা | তারপরেও জানা যায়নি যিশু আর ইশা আসলে একই মানুষ কি না। হয়তো একদিন এই মহামানবের জীবনকে নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের উত্তর মিলবে কালের নিয়মে।
**************
page
seo
blog
blogger
blogspot
Book
news
learn
press
media
find out
Literary Agents
literature
religion
economics
politics
world
bengali
bangladesh
dhaka
entertainment
Merry Christmas
Jesus
0 Comments