Socialist Economy and Bangladesh

           Socialist Economy and Bangladesh



                                সোস্যালিষ্ট অর্থনীতি ছাড়া জাতি নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবে না

 

বাংলাদেশ সরকার যেভাবে করোনা হ্যান্ডলিং করছে, জাতির টাকায় টিকা কিনেনি, মানুষ মরছে; যেই ধরণের বাজেট করছে, যেভাবে ২ গুণ ঋণ দিয়ে শিল্পায়ন (গার্মেন্টস ) করছে, যে ধরণের শিক্ষা ব্যবস্হা চালু রেখেছে, বেকারে দেশ ভরে যাচ্ছে; যেভাবে চাকুরী সৃষ্টি করছে, মানুষকে স্ত্রী ফেলে দিয়ে প্রবাসে দাস হতে হচ্ছে; যেই ধরণের বেতনের স্কেল চালু রেখেছে, ইহাতে ঘুষ খেতে হয়; যেই ধরণের রিটায়ারমেন্ট ব্যবস্হা রেখেছে, তা দিয়ে শুধু বন্ড কেনা যায়; যেই বেহাল অবস্হায় খাদ্য উদপাদন হচ্ছে, কেহ জানে না কৃষক কি রোপন করবে জমিতে; যেভাবে এনার্জি সরবরাহ করছে, উহা জাতির সাথে ব্যবসা মাত্র; যেভাবে ইনফ্রাষ্ট্রাকচার গড়ছে, তাতে সরকার জাতির সাথে কন্ট্রাক্ট টারী করছে; দেশের আইনকানুন, বিচার ব্যবস্হা যেভাবে কাজ করছে, বিচারকেরা ঘুষ খাচ্ছে; এগুলো কোনটাই দেশের সাধারণ জনতার অনুকুলে নয়, জাতি গঠনে কাজ করছে না। দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্হা কোনভাবে সাধারণ নাগরিকের পক্ষে নয়, ইহা দেশের ১৫/২০ লাখ পরিবারের অনুকুলে; এই ১৫/২০ লাখ পরিবারের লোকদের মতে বাংলাদেশ এশিয়ার বাঘ, ইউরোপের হরিণ, আফ্রিকার হাতী, দক্ষিণ আমেরিকার লামা ও অনেক কিছু; বাস্তবতায় ইহা বাংলাদেশের শাসক শ্রেণী, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের কলোনী ও বাজার মাত্র।


শেখ হাসিনার শারীরিক অবস্হা ভালো থাকলে, তিনি আগামীবারও সরকার গঠন করবেন; কোন কারণে, উনার দল যদি ক্ষমতা হারায়, দেশ চালনার জন্য কোন দল খুঁজে পাওয়া যাবে না; জোড়াতালি দিয়ে সরকার গঠন করলে, ইহা ইয়েমেন, আফগানিস্তানের মত ১০০ ভাগ এনার্খীর মাঝে ডুবে যাবে। যদি শেখ হাসিনা আরো ৭ বছরও দেশ চালান, দেশের অবস্হা ক্রমাগতভাবে খারাপের দিকে যাবে; এই দেশকে তিনি কোনভাবে আর সঠিক কক্ষপথে আনতে পারবেন না; উনার মাথায় সেই রকম কোন তত্ব নেই, দলে সেই রকম লোকজন নেই, প্রশাসনে সেই রকম কোন কর্মচারী নেই। এখন শিক্ষিত শ্রেনীর কোন জ্ঞান, ধ্যান, ভুমিকা, পদক্ষেপ আছে কিনা, যা জাতিকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে?


আমি যতটুকু অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, টেকনোলোজী, সোস্যাল সায়েন্স বুঝি, সেটা থেকে বলতে পারি যে, এই জাতিকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে হলে, সামজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করতে হবে। বাংগালীরা ক্যাপিটেলিজমের অর্থনীতি ও ফাইন্যান্স বুঝেন না; ফলে দেশে গলাকাটা, সমান্তবাদী ক্যাপিটেলিজম ও কলোনিয়েলিজমের মতো ফাইন্যন্সিয়েল সিষ্টেম চলছে। বাংগালীরা কোনদিন ভুত দেখননি, কিন্তু প্রতিটি বাংগালী মিথ্যা বলেন যে, তারা ভুত দেখেছেন; তেমনি বাংগালিরা সোস্যালিজম দেখেননি, কিন্তু ইহার ভয়ে সারাক্ষণ ভীত; শেখ সাহেবও ইহাকে ভয় করতেন; এক সময় উনার ভয় কেটে গিয়েছিলো; তিনি বাকশাল প্লাটফরম ব্যবহার করে সোস্যালিজম করতে চেয়েছিলেন। আপনি যদি বিশ্বাস করেছেন যে, শেখ সাহেব অবশ্যই আপনি, বেগম জিয়া কিংবা শেখ হাসিনার চেয়ে বুদ্ধিমান ছিলেন, আপনি শেখ সাহেবের ভাবনাটিকে বুঝতে চেষ্টা করে দেখতে পারেন ; তবে, ভাবনা উনার হলেও, তত্ব কিন্তু উনার নয়, তত্বের দার্ষহনিক হচ্ছেন, কার্ল মার্ক্স।

 আবার সেই সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ? আমি কিঞ্চিত ভোগ করেছি , আপনি করেননি বলে আপনার প্রেম অটুট আছে । বর্তমান চীনা স্টাইলের অর্থনীতি আমার পছন্দ । এটার চলনসই অংশ আমরা কাধে নিতে পারি ।

চীনের বর্তমান অর্থনীতিকে ডিফাইন করার জন্য কোন শব্দ বা বাক্য আপনি ব্যবহার করতে চান?

না , তাকে কোন নাম দিতে চাই না । সে এতটাই ভাল করছে যে তাকে নব্য চীনা অর্থনীতি বলা যায় । তেং শিয়াও পিং তার জনগন , মাটি , অভ্যাসকে বুঝতেন ।

বার্মার অর্থনীতি দখল করে নিয়েছে, শ্রীলংকা ও মরিসাসকে অকারণ পোর্ট বানিয়ে দিয়ে বিলিয়ন বিলয়ন ডলারের তলে ফেলেছে, আফ্রিকার সব সরকারকে ঘুষ দিয়ে দেশগুলোর খনিজ কিনছে; এগুলোকে অর্থনীতি বলে, নাকি ডাকাতী বলে? পাকিস্তান ও বাংলাদেশে চীন কি করছে? চীন উইঘুর ও তিব্বতীদের খেয়ে ফেলবে।

যাক, চীনা অর্থনীতিকে বলতে পারেন, জাতীয়তাবাদী গলাকাটা ক্যাপিটেলিজম।দেশের জনগণ, তাদের অভ্যাস, মাটি ও সম্পদ বুজে সিস্টেম তৈরী করতে হবে। ভারতের মতো কট্টর গলাকাটা ক্যাপিটালিস্ট এবং চরম সামন্তবাদীর মিশ্রনের সিস্টেম বৃহত্তর জনগণের জন্য কোনো মঙ্গোল বয়ে আনবে না। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মতো কল্যানমুলক রাষ্ট্রের আদলে হলেও মন্দ হয় না। অথবা চীনের চলনসই অংশ গ্রহণ করা যেতে পারে।

স্ক্যানডেনেভিয়া, কানাডা ও ফ্রান্স হচ্ছে ক্যাপিটেলিজম ও সোস্যালিষ্ট অর্থনীতির মিশ্রণের উদাহরণ; ওদের মাথাপিছু সন্চিত সম্পদ আমাদের চেয়ে বেশী, ওদের মানুষ আমাদের চেয়ে শতগুণে বেশী দক্ষ।

এই যে অন্যের সম্পদ দখলদারির ব্রিটিশ অভ্যাসের জন্য চীনকেও ভুগতে হবে অবিশ্বস্ততার ক্যান্সারে । চীনও ভাঙবে উত্তর আর দক্ষিন খণ্ডে । ভিয়েতনাম , মালয়শিয়া এগিয়ে আসবে । আমাদের সুস্থ নেতৃত্ব থাকলে আমরাও লাইনে দাঁড়াতাম , আমাদেরও ভাল কিছু হতো ।আমাদের কোন নেতৃত্ব নেই; শিক্ষিতদের জ্ঞানই আমাদের পথ দেখাবে; বিশ্বে সব আছে, আমাদেরকে কোন কিছু আবিস্কার করতে হবে না, বুদ্ধিমানের মতো অনুকরণ করলেই হবে। গনতান্ত্রিত ব্যবস্থায় সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি।মোটামুটি ইউরোপে যেটা চালু আছে।পুঁজির বিকাশের সুযোগ থাকবে কিন্তু লুটপাট থাকবে না।গনতন্ত্র থাকলে সুশাসন থাকবে,প্রত্যেককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে।

সমাজতন্ত্রে, পুঁজি, কাঁচামাল, শ্রম ও ম্যানেজমেন্ট সাধারণ মানুষের হাতে থাকে; একমাত্র সমাজতন্ত্রই বেকার সমস্যা সমাধান করে ও সঠিকভাবে রিটায়ারমেন্টের ব্যবস্হা করতে পারে। সোস্যালিজম দেশের সব মানুষের পড়ালেখা, কাজ করার জন্য, চাষবাস ও শিল্পোন্নয়ন করে; প্ল্যানিং ও জাতিগঠনে সবাই অংশ নিতে পারেন; কেহ বেকার থাকবে না। বাংগালী এখনো সমাজতন্ত্র বললে বলে কমিউনিস্ট বলে, আর কমিউনিস্ট বলে এরপর বলে নাস্তিক

প্রত্যেক বাংগালী যে ভুত দেখেছে বলে গল্প করে, উহা কি সত্য? ইহা সত্য নয়, জ্ঞানের অভাব; জ্ঞানের অভাবে জাতি কোন তত্বই বুঝে না। বাংলায় অব্যবস্থাপনার মাঝেও করোনা তুলনামুলক ভাবে কম ক্ষতি করেছে মানুষের। কারণ, গরম আভাওয়া, খোলাঘর, বেশীরভাগ ঘরে ফ্যান আছে। সোসয়ালিষ্ট অর্থনীতি প্রকৃতির অর্থনীতি, মানুষের আচরণের সাথে মিলায়ে স্বাভাবিক জীবনের অর্থনীতি: মানুষের দরকার শিক্ষা, বেকারত্বহীন সমাজ, থাকার মতো স্বাস্হ্যকর ঘর, চিকিৎসা।

 বিপ্লবের আফিমে বুদ হয়ে থাকা ইয়াং বিপ্লবীর তরুনী প্রিয়তমা প্রেমিকার বিবাহ হইয়া গেল মধ্য বয়সী টাকা, ভুড়ি ও টাকওয়ালার আলুর ব্যাপারীর সাথে। কলিকাতে চারটা টান দিয়ে আধা বন্ধ লাল চোখে আসন্ন বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী নিজেরে প্রবোধ দেয় ঐ বুইড়া কি উত্তরমাশা অন্তরীপের মত ঝঞ্জাবিক্ষুদ্ধ যৌবনবতীর সাগরে জাহাজ চালাতে পারবে? কিছুতেই না। কদিন পর ঠিকই আমার কাছে ফেরত আসা লাগবে।

দিন যাইতে থাকে, একই পরিমান সিদ্ধিতে আর আগের মত ভাব আসে না, ডোজ বাড়াতে হয়, বছর না ঘুরতেই খবর পায়ে বিপ্লবী সে মামা হতে চলেছে। সে ভাবে বুইড়া তো মরলো বলে, আমার কাছে ফেরায় লাগবে তার, বাচ্চাসহ আসলেই বরং ভাল, তাকে আর রাতে পরিশ্রম করে বাচ্চার ওয়ার্ক ওর্ডার দিতে হবে না, কাজ আগায়ে গেল।

তার প্র্রিয়সী তার থেকে হাত ছোঁয়া দুরত্বে, বুইড়াটা মরলেই বাচ্চাসহ প্রিয়সী তার। দেড় বছর না যায়তেই সে ডাবল ধামাক্কা অফারের খবর জানতে পারে, সে আবার মামা হতে চলেছে। এইবার দুইন বেবি। সে ভাবে এ বল কৈ পাই বুইড়াটা, নিশ্চয় কাউরে ভাড়া করে জল ধার করে সে। করুক তাতে তার কি। আর কয়টা দিন তাই তার প্রিয়সীরে মনের মত করে লাল পেড়ে শাড়ীতে সাঁজাতে পারবে। ইদানিং ডোজ বাড়ায়েও ভাবের জগতে ডুব দিতে সমস্যা। নেশা কেটে যায় অল্পতে। তখন দেখতে পাই বাচ্চা তিনটা দিনে দিনে বড় হচ্ছে চোখের সামনে। আলুর ব্যাপারী ও দিকে পেঁয়াজ আর আদার ব্যবসাও শুরু করেছে।

এমনি করে দিন যায়, বছরান্তে তার বয়সে একটা করে সংখ্যা যোগ হয়। আলুর ব্যাপারীর চুল সাদা হয়, ওডি গাড়িতে চড়ে, বার্ড ক্লাবে রাতে মদ খাইতে যায়, বিপ্লবী বড় বড় চুল আর রক্তলাল চোখে দেখে আর ভাবে আর কয়েকদিন। জ্যাক ড্যানিয়েলের পেগ একদিন বেশী হলেই প্রিয়সী তার।

সে স্বপ্ন তার একদিন পুরুন হয় বটে, বুইড়াটা যায় মরে, সে হাজির হয় প্রিয়সীর সামনে প্রেমের দাবী নিয়ে, প্রিয়সী তারে চিনতে পারে বহু কষ্টে। খাওয়া পরার একটা ব্যবস্থা করার জন্য তার ব্রা আর পেন্টি ধোয়ার কাজ দেয়, সাথে এক্সটা দায়িত্ব হিসাবে সকাল বিকাল আর সন্ধ্যায় তার বিগত যৌবনা প্রিয়সীর ব্রা আর পেন্টি ধোয়া আর সেগুলোর গুনকির্তন করার দায়িত্ব দেয়। চাকুরীর স্থায়িত্বের প্রেসক্রিপশন দেয় পাশের বাসার বুইড়া প্রতিদ্বন্দী মহিলার ব্রা পেন্টির বিষাদাগার করার। এক ফাঁকে মক্কা থেকে হজ্ব করে আসার নির্দেশ পেয়ে হজ্ব করে হাজী হয় বিপ্লবী।

তার হঠাৎই মনে পড়ে যায় সেই গল্পটা। একটা বেওয়ারিশ কুকুর একটা বাড়ির সামনে ঠাঁই বসে থাকে খাবারের খোজ খবর নেওয়া বন্ধ করে। দিনে দিনে তার শরীরের হাঁড় গুলো চামড়া ভেদ করে উঁকি দিতে থাকে। তার বন্ধুবান্ধব খাবারের খোজে যাওয়ার আগে তাকে ডাকলে সে যায় না, বসেই থাকে, বলে অপেক্ষায় আছি। কেন? কোন একদিন ঐ বাড়ির কর্তা তার বৌয়ের সাথে ঝগড়া এক পর্যায়ে বলেছিল তোরে কুকুর দিয়ে কাম করানো উচিত। সে সেই অপেক্ষায় বসে থাকে। যদি কখনো কোথাও যায়, ঠিক তখনই যদি গৃহকর্তা ঐ কাম করার জন্য তার খোঁজ করে তাই সে কোথাও যায় না। বসে অপেক্ষায় থাকে।

আপনিও তেমন অপেক্ষায় আছেন। সমাজতন্ত্র একটা পরিত্যাক্ত ধারনা। সমাজতন্ত্র রাষ্টীয় সকল সম্পত্তি অল্প কিছু মানুষের হাতে কুষ্ঠিগত করে একটা স্বৈরাচারের জন্মদিয়ে থাকে। ইউরোপের আদলের সামাজিক দায়ব্ধতাসহ পুঁজিবাদ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সেরা। আপনি নিজেই হয়ত সবচেয়ে বড় হিপোক্রেট। সম্ভবত আপনি বা আপনার পরবর্তী প্রজম্মের মাইগ্রেশনের জন্য সমাজতান্ত্রিক উত্তর কোরিয়াকে বেছে নেবেন না।

রাশিয়া সমাজতন্ত্রকে পরিত্যক্ত করার পরও করোনার টিকা বানাতে পেরেছে, বাংলাদেশ বানাতে পারেনি; বাংলাদেশের মানুষও ইহাকে সময় মতো পরিতয়াগ করিতে পারেব।

 বাংলাদেশের মানুষ সোস্যালিষ্ট অর্থনীতি বুঝে না। সোস্যালিষ্টদের এত দল যে, মানুষ কোন দিকে যাবে সেটাও বুঝে না। আর তাদের ধর্মহীণতার কারণে ধার্মিকেরা তাদের থেকে দূরে থাকে। তাহলে এখানে সোস্যালিষ্ট অর্থনীতি কার মাধ্যমে কিভাবে হবে?সোসয়ালিষ্টদের এত দল হওয়ার কারণ, তারা সোস্যালিষ্ট অর্থনীতি বুঝে না; মতিয়া চৌধুরীর উদাহরণ দেখেন, সে কি বলে, সেনিজেও তা বুঝে না।ধর্ম কম দক্ষ ব্যক্তিদের ভাবনা থেকে বের হওয়া একটা সামন্তবাদী সময়ের শাসন ব্যবস্হা

যে সিস্টেমই চালু করেন, সিস্টেমের মাথায় যাঁরা বসে থাকবেন তাঁরা অদ্ক্ষ ও নীতিবিবর্জিত হলে কোনো সিস্টেমই কাজ করবে না। এ দেশের মাথায় পচন বহু আগে থেকেই

১৯০০ সালেও চীন ও রাশিয়া পঁচা দেশের সারিতে ছিলো; এখন চীন বিশ্বের ২য় ও রাশিয়া ৫ম শক্তিশালী দেশ; ১৯৯০ সাল অবধি সোভিয়েত ছিলো ২য় শক্তিশালী দেশ। সমাজতন্ত্র হলো প্রকৃতির অর্থনীতি

 আমার মনে হয় সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেশে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারবে না , কারণ আমাদের সিস্টেমের ভেতর ক্রনিক সমস্যা আছে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা পরিবর্তন আনতে পারতো কিন্তু আমাদের দেশের মানুষেরা সমাজতন্ত্র বুঝতে অক্ষম। সেটা যদি বুঝতে পারতো তাহলে বঙ্গবন্ধু কতৃক প্রণীত বাকশালে যে অর্থব্যবস্থা রাখা হয়েছিল তা জাতি সর্বদা অনুসরণ করতো। কিন্তু , আমাদের দেশের মানুষকে খুব সহজেই বিভ্রান্ত করা যায়, তাদেরকে প্রোপাগান্ডা দিয়ে কোনো কিছুর বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলা যায়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা চালু করতে গেলে এর বিপক্ষেও নানা প্রোপাগান্ডা আসবে এবং সাধারণ জনগণ কিছু না বুঝেই বিরোধিতায় নামবে।


বাংলাদেশের আসল সমস্যা হচ্ছে এখানে নীতির , নৈতিকতার কিংবা সঠিক মূল্যবোধ এর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে , শিক্ষাব্যাবস্থা এর ভেতর বড় ধরণের গলদ রয়েছে , সমাজে ধনী , আর দরিদ্রের এমনকি সাধারণ মধ্যবিত্তের মধ্যে বিস্তর ফারাক। একটা ভঙ্গুর স্বাস্থ্যবাবস্থায় চলছি আমরা , আর সেই সত্তর দশক থেকে বিদেশে মানবসম্পদ মূলত অদক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানিকে আমরা আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বানিয়ে ফেলেছি।


এই অবস্থার পরিবর্তনে আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থা , একদম নিচ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ঢেলে সাজাতে হবে , সমাজ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে সমাজে উদারনৈতিকতার সৃষ্টি হবে , আমাদের স্বাস্থব্যাবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে , দরিদ্র বান্ধব চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে , হেলথ ইন্সুরেন্স সিস্টেম চালু করতে হবে। আমাদের বিচার ব্যবস্থা সহ সবকিছুকেই ঢেলে সাজাতে হবে। সময়ের সাথে সাথে আপডেট করতে হবে সবকিছুকে। আমাদের প্রধান ব্যার্থতা হচ্ছে আমরা সময়ের সাথে নিজেদের ব্যাবস্থাকে আপডেট করতে পারিনি। এজন্য পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে কিন্তু আমরা সেই অর্থে ছন্দে থাকতে পারিনি।


আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রুযুক্তি বান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নে মনোযোগী হতে হবে। তাহলেই দেশ বিদ্যমান ইকোনোমিক সিস্টেমের মধ্যেই এগিয়ে যাবে।আপনি যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, সেসব সমস্যা রাশিয়ায় ও চীনে ছিলো বলেই ওখানে সমাজতত্র আনা হয়েছিলো।শিক্ষিত বাংগালীরা শুমাত্র নিজ পরিবারের জন্য চেষ্টা করে চলেছেন, ইহা কাজ করবে না। সোস্যালিস্ট ইকোনমির দেশ উত্তর কোরিয়া কেন এখনো নিজের পায়ে দাড়াতে পারেনি? কারণ উহাকে একটা পরিবার ও মিলিটারী দখল করে নিয়েছে। ক্যাপিটেলিষ্ট বাংলাদেশও একই সমস্যায় আছে; তবে, উ: কোরিয়ানরা বাংগালীদের চেয়ে দক্ষ।

Socialist Economy and Bangladesh

 সমাজতান্ত্রিক অথবা কল্যানমুলক কিছু পদক্ষেপ একটি রাষ্ট্রের একধরণের মৌলিক অবকাঠামো গড়ে দিতে সহায়তা করে - সেটা হতে পারে শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি ও রাস্তা-ঘাটের মতো ভৌত অবকাঠামো। একটি রাষ্ট্রের জনগণকে শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা গড়ে দিলে এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে দিলে সেই দেশের পক্ষে দ্রুত উন্নতি লাভ করা সক্ষম হয়। এর উদাহরণ আমরা দেখতে পাই ভিয়েতনাম, বুলগেরিয়ার মতো দেশগুলোতে - যারা আজ শিল্পায়ন ও আইটিতে দ্রুত উন্নতি লাভ করছে । এমনকি ভারত এক সময় কল্যানমুলক পদক্ষেপ নিয়ে তাদের শিক্ষাব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছিল যার ফসল আজ সে ঘরে তুলছে দক্ষজনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে। যদিও ভারত তার সামন্ততান্ত্রিক সিস্টেম থেকে অদ্যাবধি বেরিয়ে আসতে পারে নি এবং এক লাফে চরম পুঁজিবাদে লাফ দিয়েছে - আর একারণে সেখানে সম্পদ বন্টনে রয়ে গেছে বিশাল ব্যবধান, সাধারণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান এখনো মানবেতর। 

Socialist Economy and Bangladesh

 আপনি যখন ইন্জিনিয়ারিং'এ ভর্তি হয়েছিলেন, তখন ১ সীটের বিপরিতে কতজন ভর্তি হতে চেয়েছিলো? ওরা এখন কোথায়? আপনার বয়স যখন৭/৮ছিলো, তখন বস্তিতে আপনার বয়সী কি পরিমাণ বাচ্চা ছিলো? ওরা এখন কোথায়? আপনি এমন ঔষধ সাজেষ্ট করলেন যা বাংলাদেশের সব দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায় বিদ্যমাণ। সোসালিষ্টদের কোন দলের মেয়াদ আছে বলে তো মনে হয় না। মেনন, মতিয়ারা সোস্যালিজম বুঝার মতো জ্ঞানী ছিলো না। সোস্যালিষ্টদেরকে ধর্মহীন পরিচয় দিয়ে সহজেই তাদের বিরুদ্ধে ধার্মিকদেরকে ক্ষেপিয়ে তোলা যায়। শৈশবে শুনতাম এরা সব নাস্তিক। বাংলাদেশে নাস্তিক নেই; আসলে, বাংলাদেশে আস্তিক পাওয়াই মুশকিল; বাংলাদেশে আছে, কমশিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষ। অশিক্ষিত মানুষ এই মহাবিশ্বকে কোনভাবেই বুঝতে পারেন না। শিল্পী থেকে কর্মী বড় সুর ছড়িয়ে যায়’- আপনি শিল্পী, কিন্তু কর্মী নেই। তাহলে আপনার সুর ছড়াবে কেমন করে? সোষ্যালিষ্টদেরকে আগে বলুন তারা কিভাবে সংগঠিত হবে?মানুষ জন্ম গতভাবে সোস্যালিষ্ট; আপনার প্রতিবেশী হিন্দু পরিবার ছিলেন, আপনি তাদেরকে কি হিন্দু হিসেবে জানতেন, নাকি মানুষ হিসেবে জানতেন? সব শিশুরা সব কিছু অন্য শিশুকে দিতে চায়। আপনি তাত্ত্বিক, কিন্তু আপনার তত্ত্বে কাজ করার কেউ নেই। সোষ্যালিষ্টরা এদেশ থেকে ক্রমাগত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এরপর ইতিহাসে লেখা থাকবে, একদা এদেশে সোস্যালিষ্ট জাতীয় কিছু বেকুবের বসবাস ছিল।  অনেক বুদ্ধি সরবরাহ করলেও সে বুদ্ধি ধারণের মত কোন স্থান তাদের মগজে ছিল না। অবশেষে তারা এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেল। এদেশে যারা সোস্যালিজমের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন, তারা অর্থনীতি বুঝতো না; সোস্যালিজমের মুল ধারণা হচ্ছে অর্থনীতি। কারখানা করার ১টা উদাহরণ: শুরুতে, ১টা গাড়ীর কারখানা গড়ার জন্য যেই ক্যাপিটেল দরকার, কর্মচারীরা সাধ্যানুরে সেখানে বিনিয়োগ করবে, বাকীটা সরকার বিনিয়োগ করবে; এর বাইরে, যাদের বয়স বেশী হয়েছে কিন্তু হাতে টাকা আছে, তারা সেখানে বিনিয়োগ করবে; কারখানে চালু হলে, এরা সবাই বেতন পাবেন ও বিনিয়োগ থেকে লাভ পাবেন। একইভাবে কৃষি ফার্ম গঠিত হবে।


                                                        ******************

























facebook

page

seo

google

blog

blogger

blogspot

Book

news

learn

press

media

find out

Literary Agents

literature

religion

economics

politics

world







Current affairs


current world


Socialist Economy and Bangladesh


Bangladesh







Post a Comment

0 Comments