Sheikh Hasina | Nobel Peace Prize
শেখ হাসিনা কি শান্তিতে নোবেল পেতে পারেন?
পেলে ভালোই হতো; কিন্তু সম্ভাবনা নেই; একাধারে ৪০ বছর আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকায়, তিনি বিবেচনা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। তা'ছাড়া উনার তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকার ও প্রশাসন দেশ চালনায় যেই দক্ষতা দেখাচ্ছে, উহা উনার বিপক্ষে যাবে। জাতিসংঘের ৭৬তম সন্মেলনে উনার বক্তব্য ছিলো অনেকটা অর্থহীন, উনি স্হান, কাল, না বুঝেই কিছু কথা বলেছেন। জাতিসংঘে উনার বক্তব্য কি ধরণের হওয়া উচিত, এই ব্যাপারে উনার কোন ধারণা আছে বলে আমার মনে হয় না। এই ধরণের বক্তব্য পশ্চিমের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হওয়ার কথা নয়।
Sheikh Hasina | Nobel Peace Prize
আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের কিছু লোকজন শেখ হাসিনাকে খুবই বিচক্ষণ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান; কিন্তু সাধারণ মানুষ ও বিশ্বমত কি শেখ হাসিনাকে সেইভাবে দেখেন? যেসব বাংগালী লোকজন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তাদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, "মার্কেল ও শেখ হাসিনার মাঝে কে বেশী মানবিক ও দক্ষ"; উত্তরটা কি হওয়ার সম্ভাবনা?
Sheikh Hasina | Nobel Peace Prize
শেখ হাসিনার নোবেল পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে, টিভির টক'শোতে অনেক আলোচনা হয়েছে অতীতে; আপনারা অনেকেই এগুলো শুনেছেন, পড়েছেন। শেখ হাসিনার নোবেল পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু লোক সব সময় বলে আসছেন যে, শেখ হাসিনার আসল যোগ্যতা নোবেলের থেকেও অনেক অনেক বেশী, পাওয়া তো উচিতই, এবং না পেলে কোন অসুবিধা নেই; কারণ, নোবেল উনার জন্য খুবই ছোটখাট ব্যাপার। আসলে, এসব লোকদের নোবেল নিয়ে সঠিক কোন ধারণা নেই।
এখন আপনার কি ধারণা? আমার ধারণা, শেখ হাসিনা একাধারে ৪০ বছর আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকার ফলে, পশ্চিমের গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোন বিচারক উনাকে এই পুরস্কার দেয়ার পক্ষে ভোট দেবেন না।
শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পেয়ে আসছেন রাজনীতিবিদরা, মানবাধিকার কর্মীরা, মানব সেবা ও শান্তিতে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ও প্রতিষ্ঠানসমূহ। এসব গুণাগুণের অধিকারী লোকজন, কিংবা সংস্হার সংখ্যা, একই সময়ে বিশ্বে অনেক থাকে, ফলে এখানে যোগ্য ব্যক্তি, বা সংস্হার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া ও বিবেচিত হওয়া বেশ কঠিন ব্যাপার। একই সময়ে ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, মেডিসিন, বা ইকোনোমিক্স'এ যে'কয়জন সায়েন্টিষ্টস রিসার্চে সামনের সারিতে আছেন তাঁদের ব্যাপারে সায়েন্টিষ্টরা সম্পুর্ণভাবে অবগত থাকেন; ফলে, সেখানে ওদিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সামান্য। কিন্তু শান্তিতে এত বেশী লোক ও প্রতিষ্ঠান থাকে যে, না পাওয়া অবধি বলা কঠিন, কে পাবেন।
নিবেদিত-প্রাণ আওয়ামী লীগাররা জনসমক্ষে সব সময় বলে আসছেন যে, শেখ হাসিনা নোবেল পাবার যোগ্য, ও একদিন পাবেন; আবার শেখ হাসিনার বিরোধীরা বলছেন যে, শেখ হাসিনা পাবেন না। মনে হচ্ছে, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের লোকেরা এই ব্যাপারে উৎসাহ কিছুটা হারিয়ে ফেলেছেন। যাক, আমার মনে হয়, কারো পছন্দ বা অপছন্দের কারণে নয়, ৪০ বছর একাধারে আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকার কারণে উনার বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে!
Sheikh Hasina | Nobel Peace Prize
দেশকে করোনা-মুক্ত করার জন্য ও করোনার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি কি করছেন, টিকা নিয়ে তার সফলতা কি, জলবায়ু সমস্যা সমাধানের জন্য উনার সরকারের প্ল্যান ও পদক্ষেপ কি রকম, সেটার কথা বলার দরকার ছিলো; তিনি কোথাকার "৬ দফা দাবী, নাকি ৬ দফা প্রস্তাব" রেখেছেন।
কাউকে পাওয়া না গেলে শেখ হাসিনাকেই নোবেল দিতে হবে।আমার মনে হয় এবার শান্তিতে নোবেল বাইডেনই পাবে,আফগান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য। বাইডেনের সম্ভাবনা আছে।
দাদারা যদি মনে করেন, বাংলাদেশে আরও রহিঙ্গা বা অন্য শরণার্থীর জায়গা হওয়া দরকার তবে শুধুমাত্র এই পয়েন্টে থেকেই শেখ হাসিনাকে নোবেল দিতে পারে।
বিগত নিকট দিনের শান্তির নোবেল শুধুই স্বার্থের কারণে দেয়া হয়েছে।
নোবেল কমিটি জনমত নেয় বলে মনে হয় না; আমি পশ্চিমের লোকদের মনোভাবের প্যাটার্ণ থেকে ধারণা করছি যে, শেখ হাসিনা পাবেন না। দেশে তো সমস্যা কম, উনার ক্রেডিট আছে নিশ্চয়।
৪০ বছর আওয়ামীলীগের প্রেসিডেন্ট থাকাতে দেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে, এটাই বড় ক্রেডিট?
উনার আমলে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে (যেমন বিদেশী ঋণ, ভারতীয় ও চীনাদের কারণে দেশে শিক্ষিতদের বেকারত্ব, টিকা নে কেনা ) এগুলো জাতিকে বেদিশা করে দিচ্ছে।
কথায় আছে পচা শামুকে পা কাটে।
শেখ হাসিনা পেয়ে যেতে পারে। তাতে বিশ্বের সমস্ত বাঙ্গালী বেশ লাভবান হবে।উনি পেলে আমাদের সন্মান বাড়তো; কিন্তু আমি সম্ভাবনা দেখছি না।
শেখ হাসিনা কিছু ভালো কাজ করেছেন।
১। রাজাকারদের শাস্তি দিয়েছেন।
২। তার বাবার খুনীদের শাস্তি দিয়েছেন।
৩। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল।
৪। বিএনপির কোমর ভেঙ্গে দিয়েছেন।
৫। ভোটার আইডি কার্ড গুলো ডিজিটাল করেছেন।
৬। দেশের মানুষের টিকার ব্যবস্থা করেছেন।
৭। লাখ লাখ রোহিংগাদের জায়গা দিয়েছেন। তাদের কর্মঠ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তিনি আওয়ামী লীগের মতো দল পেয়ে ৪০ বছরে যা করেছেন, ইহা ভালোর চেয়ে খারাপ বেশী হয়েছে; দলটাকে এখন মাফিয়া ও বেকুবদের দলে পরিণত করেছেন; উনার পর, এরা দেশ তো দুরের কথা নিজের পরিবারও চালাতে পারবে না।
শেখ হাসিনা কি শান্তিতে নোবেল পেতে পারেন?
আমি কমিটিতে থাকলে না ভোট দিতাম।
যেহেতু আমি কমিটিতে নাই, তাই আমার বস্তব্যের কোনো মূল্যও নাই।
মিডিয়া ও ব্লগে এটা নিয়ে অনেক কথা কথা হয়েছে, এখনো দুষ্ট ব্যুরোকরেটরা উনাকে নোবেল সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা দিয়ে থাকে; আমি সেইদিক থেকে দেখছি।
শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশ নোবেল প্রাইজ পাওয়ার মতো আর কে আছেন?
সাইখ সিরাজ? তিনি কৃষি নিয়ে আজীবন লড়ে যাচ্ছেন। শান্তি বা কোন বিষয়ে নোবেল পাবার মতো কেহ বাংলাদেশে নেই। বাইডেনকেই মনে হয় নির্বাচিত করা হবে। আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। তবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী পেলে দেশের অনেক লাভ হতো। ৪০ বছর একই পদ ধরে রাখলে পশ্চিমের কেহ কোন পুরস্কার দেবে?
দেখুন শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি অসাধারণ বা মহৎ কর্ম হিসাবে ইতিহাসে স্থান পাবে। এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া মোটেই সহজ নয়, এবং আমার মনে হয় শেখ হাসিনা যে কোনো বিষয়েই অতি দ্রুত ও আত্মবিশ্বাস সহকারেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তবে এই সাহসী এবং মহৎ সিদ্ধান্তের কারণে তার নোবেল প্রাপ্তির আশা করাটা মনে হয় না বাস্তবে রূপ লাভ করবে। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যুটা আমাদের কাছে যতটুকু গুরুত্ব পাচ্ছে, বিশ্ব মোড়লদের কাছে তার প্রায়োরিটি ঠিক ততটুকু নয়। বিশ্ব মোড়লরা এটাকে মিয়ানমার আর বাংলাদেশের সমস্যা বলেই পার পাওয়ার ধান্দা করছেন। সম্প্রতি বাইডেন দাদা আর জল্লাদ মোদী মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান নিয়ে যতুটুকু সরব হলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে তার ছিটেফোঁটাও সরব হতে দেখা গেলো না।
আজকের যুগান্তরের খবর:
মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে মোদি-বাইডেনের বিবৃতি : মিয়ানমারের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশটিতে দ্রুত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত।
বুঝলেন তো মোড়লদের চিন্তা-চেতনার ধারা
আমাদের মতো গরীব দেশে ১৩ লাqখ রিফিউজী, ইহা নিয়ে বিশ্ব চিন্তিত হওয়ার কথা ছিলো; কিন্তু বিশ্ব যখন দেখেছে যে, বার্মা কারো কথা শোনে না, এবং বাংলাদেশের প্রশাসন রোহিংগাদের নিয়ে টুকটাক ২ পয়সার ব্যবসা করে খুশী, ওরা ইহা নিয়ে তেমন চাপে নেই। মোদী, আমেরিকা, বুদ্ধদেব, কারো কথা বার্মার মিলিটারী সুনতেও চাহে না।
শান্তিতে নোবেল জিততে কোন যোগ্যতার প্রয়োজন হয়না। মালালা কেবল মাথায় গুলি খেয়েই নোবেল জিতে ফেলল। দুনিয়ার অশান্তির জন্ম দিয়ে বারাক ওবামা নোবেল জিতল।
আসল নোবেলের দাবিদার ছিল ট্রাম্প। মারাত্মক ক্ষমতার অধিকারী হয়েও বিশ্বে তেমন একটা অশান্তি করে উঠতে না পারার কারণে। ওবামা শান্তি আনতে পারেননি, কিন্তু চেষ্টা করে গেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা এবং আফগান ইস্যুতে বাইডেন নোবেল পেতে পারেন। ৪০বছর আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট পদে থাকা দলীয় ব্যাপার। বৈশ্বয়িক কোন বিষয় নয়। নোবেল দেওয়া হয় বৈশ্বয়িক বিবেচনায়। একটা জাতিকে নিঃশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত চলছিল। শেখ হাসিনা তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় কাজ করেছেন। নোবেল কমিটি এটা বিবেচনায় নিতেই পারে। বাংগালী হিসেবে এই যুক্তি গ্রহনযোগ্য হতে পারে; কিন্তু আমার মনে হয়, ইউরোপিয়য়ানরা কোন অবস্হায় গণতান্ত্রক দলের সভাপতিকে ৪০ বছর সর্বোচ্চ পদে দেখতে চাইবেন না; এরা মাও ও ব্রেঝনেভের সমালোচনাকারী।
ফলতা বা ব্যার্থতা এক বাক্যে বর্ননা করা কঠিন। তবে যে কারনে উনাকে দেশের মানুষ ক্ষমতায় এনেছিল সেটি ছিল এর আগের সরকারের চরম দুর্নিতি। আমার প্রশ্ন উনিকি এই দুর্নিতি কমাতে পেরেছেন? এক কথায় উত্তর "না"।বরং দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন দুর্নিতি বাসা বেধেছে।
উনাকে ক্ষমতায় আনার আরেকটি বড় কারন ছিল জনগনের গনতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। উনি বংগবন্ধুর মেয়ে বলে উনার থেকে আশা ও ছিল অনেক বেশি। ২০০৬ সালে বি এন পি জামাত মিলে যে নির্বাচন দিতে চেয়েছিল সেটা চরম আন্দোলন করে তার দল থামিয়ে দেয়। এর পরে দেশে জরুরি অবস্থা চলে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে মানুষ অনেক আশা স্বপ্ন নিয়ে তাকে নির্বাচিত করলো। উদ্যেশ্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিবেন।
হলো কি? এক কথায় উত্তর এখন দেশের ৯৫% মানুষ ভোট দিতে যায়না। এর কারন কি?
কারন খুব সহজ। তার দলের লোকেরা কেন্দ্রে গেলে কাওকে ভোট দিতে দেয়না। নিজেরাই সবার ভোট দিয়ে দেয়। ইভিএম ম্যাশিন বাইরে রেখে সবার সামনে তার দলীয় প্রার্থিকে ভোট দিতে হয়।
এ জন্যে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের প্রতি এখন কোন আগ্রহ নেই। এর প্রমান ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচন। আমার নিজের চোখে দেখা, প্রত্যেকটা কেন্দ্র ফাকা ছিল। ২০১৪ সালে ১৫১ আসলে বিনা ভোটে জয় পেয়েছিল তার দল। ২০১৯ সালে নিজের তৈরি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে নিরংকুশ ভাবে ক্ষমতায় আসেন।
তবে তিনি দেশে রাজনৈতিক বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছেন বলে দেশে অনেকটাই শান্তি বিরাজ করছে। কোন মিটিং মিছিল নেই, কোন ঝামেলা নেই। এটার প্রভাব মানুষের ব্যাক্তিজীবনে ও পরেছে। মানুষ এখন নিরাপদে কর্মস্থলে যেতে পারছে। বাংলাদেশ সল্পোন্নত দেশ থেমে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হয়েছে।
উনি অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে পদ্মা সেতু করছেন। এ ছাড়া ও অনেক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড হয়েছে ও হচ্ছে। ঢাকায় মেট্রো রেল আসছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের উপরে কোন নিয়ন্ত্রন নেই। দেশের সকল ব্যাবসা ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট আছে। এগুলো সরকার নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের ক্ষমতা সরকারের চেয়ে বেশি। বাস মালিক সমিতি, পরিবহন শ্রমিকরা চাইলে সরকারকে তাদের স্বার্থে কাজ করতে বাধ্য করতে পারে।
প্রশাসনে দুর্নিতি কল্পনার বাইরে। সকল জায়গাতে নিজেদের লোক বসিয়ে মোটামুটি মিডিয়া, প্রশাসন, বিচার ব্যাবস্থা সবই দলীয় নিয়ন্ত্রনে।
ভালো মন্দ মিলেই চলছে। একেবারে সফল ও বলা যাবে না, ব্যার্থ ও বলা যাবে না। উনার সফলতার তুনায় ব্যর্থতা হাজার গুনে বেশী।
উনি সঠিকভাবে কোন অর্থনীতি অনুসরণ করেননি, ইহা সামন্তবাদী অর্থনীতি; বাংগালীদের উনি যাযাবর ও কাবুলীওয়ালা বানায়েছেন; উনার উচিত ছিলো শিক্ষা ও চাকুরীর ব্যবস্হা করা, ইহাতে তিনি ২০০% ব্যর্থ হয়েছেন। না পাওয়াই ভালো যদিও বা পেয়ে যায় পরবর্তিতে তা অং সাং সুকির মত সমালোচিত হবে। পেলে জাতীর সম্মান বাড়তো, কিন্তু উনি সেই পথ বন্ধ করেছেন, মনে হয়। আমি ঠিক মতো শুনেছি, হয়তো, ঠিক মতো বুঝিনি। উনি উনার বাবার কাহিনী বলেছেন ও করোনায় উনার সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে বেঠিক-ইনফরমেশন দিয়েছেন। এই বক্তব্য উনার নিজস্ব পার্লামেন্টের জন্য সঠিক ছিলো। নোবেল পাওয়ার কোন শর্ত/গুন উনি পূরণ করতে পেরেছেন বলে মনে হয়না। ব্যুরোক্রেটরা উনার দোষগুলোকে গুণ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে উনাকে ভুল মাঝে ধরে রেখেছে। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে দেশে বিরোধী শূন্য অবস্থা তৈরী হয়েছে । তার জনপ্রিয়তা যাই থাকুক , তাকে গদিতে দেখতে চায় দেশের অন্তত ৪০% মানুষ । উনি অত্যন্ত তুখোড় রাজনীতিবিদ, তাছাড়া রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তিনি অত্যন্ত প্রফেশনালি গুছিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাজনীতি করেন। এই রাজনীতিতে তিনি আবেগ ও নৈতিকতাকে কোনও স্থান দেন না। তাঁর জনপ্রিয়তা কতখানি বোঝার কোনও উপায় নেই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বোঝা যেত। তবে আমার ধারণা উনার জনপ্রিয়তা একেবারে কম না, অন্ততঃ ১৯৯০ সন হতে বেশ বেড়েছে। তবে আমরা খুবই সুখী হতাম যদি ২০১৮ এর নির্বাচন সুষ্ঠু হত। এটা অত্যন্ত জঘন্য এক নির্বাচন হয়েছিল। সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও হয়তো আওয়ামী লীগ জিততো। কিন্তু এক অতি উৎসাহী কুচক্র ঐ নির্বাচনকে সম্পূর্ণ নষ্ট করেছে। তিনি রাজনীতিকে ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে, দেশে সামন্তবাদ কিংবা কলোনীর মতো শাসন ব্যবস্হা চালু করেছেন। একটা জাতির চরিত্র অনুযায়ী তার শাসক। জনগণ যেখানে, যেকালে খেলাফতের উপযুক্ত চরিত্র অর্জন করে এবং যতক্ষন থাকে। সেখানে, সেকালে খেলাফত প্রতিষ্ঠা পায় এবং ততক্ষণই, টিকে থাকতে পারে।আমি আপনি আমাদের যোগফল আজকের বর্তমান , পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনা বা অন্য যে কেউ, দায় আমদেরই।আমরা প্রতিরোধ, প্রতিবাদ, প্রচেষ্টা যদিও কিছু করে থাকি, তা কি এই অবস্থা হতে উত্তরণে পর্যাপ্ত ছিল? আমার নিজের দিক থেকে আমার ভূমিকা আমাকে হীনম্মণ্যতায় ভোগায়। আমার অধিকার রক্ষায় আমি ব্যার্থ। মানুষ উনাকে ভালোবেসে উনার বিপক্ষে কিছু বলেনি; উনার অসফলতা দেশকে যাযাবরের রাজত্বে পরিণত করেছে, ১কোটী ১০ লাখ মানুষ বউ ফেলে বিদেশে পড়ে আছে। শেখ হাসিনা ইতিহাস রচনা করেছেন একজন কর্তৃত্ববতী শাসক হিসেবে; ইতিহাসে তার মত নারী বিরল। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে এমন অবস্থানে নিয়ে গেছেন যে বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগের পতন একটি মাত্র দলই ঘটাতে পারে, আর সেটি হল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।bতারেক রহমান তার অদক্ষতার কারণে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও বিএনপির শক্তি নষ্ট করেছেন। তিনি শেষমেশ এমনকি একজন এমপিও নির্বাচিত হতে পারেননি এ দেশে। অথচ, বাংলাদেশ এমনকি 'ফাইট্টা যায়' খ্যাত মমতাজও এমপি হয়েছেন, এবং আছেন। সংসদে তার গান শুনে অনেকেরই এখন কলিজা ফাইট্টা যায়। নষ্ট নেতৃত্বে ভুল পথে গেছে বিএনপি, কে তাকে আশা দেবে, কে তাকে ভরসা দেবে, কে শোনাবে তাকে সান্ত্বনার বাণী! উনার ভুলের কারণে, একদিন তারেক রহমানের মত ইডিয়টও ফেরত আসতে পারে।
নোবেল ও অনেক সময় হিসাব করে দেওয়া হয়। যদি এই দিকে একটা নোবেল দেয়ার পরিকল্পনা থাকে তবে শেখ হাসিনাকে দেওয়ার জন্য ভাবনা আসবে।
দিলে ভালো হতো, সম্ভাবনা দেখছি না
******************
page
seo
blog
blogger
blogspot
Book
news
learn
press
media
find out
Literary Agents
literature
religion
economics
politics
world
bengali
bangladesh
Current affairs
current world
Sheikh Hasina
Nobel Peace Prize
Bangladesh
0 Comments