Ancient Religion of Japan- SHINTO

        Ancient Religion of Japan- SHINTO


 

জাপানের প্রাচীনতম ধর্ম শিন্তোর খুঁটিনাটি



জাপান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ দেশ, যা উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। জাপানের প্রধান দ্বীপের সংখ্যা ৪টি। এছাড়া প্রায় ৪,০০০ এর মতো ছোটখাট দ্বীপ রয়েছে।


জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটি ৬০ লক্ষাধিক। ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্পকলা, সংস্কৃতি- প্রতিটি ক্ষেত্রেই জাপান ধরে রেখেছে স্বকীয়তা, জায়গা করে নিয়েছে কৌতূহলজাগানিয়া মানুষের মনে। দেশটির পপ সংস্কৃতির কথা না বললেই নয়। মাঙ্গা, অ্যানিমে ও উত্তেজনাময় ভিডিও গেমসের সমাহার শুধু জাপানেই পাওয়া সম্ভব। কিন্তু জাপানিদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য কিন্তু সবার চোখেই ধরা পড়েছে, তা হলো তাদের নিয়মতান্ত্রিক জীবন, সুনিপুণ কলাকৌশলে সমৃদ্ধ প্রতিটি কাজ ও কলুষমুক্ত চিন্তাচেতনা। কীভাবে তারা এরকম জীবনযাত্রায় পারদর্শী হলো? এর পেছনের কারণটাই বা কী? এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আগে জানতে ও বুঝতে হবে শিন্তো ধর্ম সম্পর্কে।


Ancient Religion of Japan

শিন্তো ( Shinto) ধর্ম  

শিন্তো হলো জাপানের প্রাচীনতম ধর্ম, যার উৎপত্তি ইয়াওই যুগে। ২০০ খ্রিস্টপূর্ব - ২৫০ খ্রিস্টাব্দ (অনেকে বলেন ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব - ২৫০ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত সময়কে বলে ইয়াওই যুগ। এ যুগ জাপানি সংস্কৃতিতে বিভিন্ন নতুন ও প্রয়োজনীয় জিনিসের যোগানদাতা। আধুনিক জাপানের ভিত তৈরি হয় এই যুগে। এছাড়া ধানের চাষ ও বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য ধাতব যন্ত্রের প্রচলন শুরু হয় এই সময়। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সামরিক কার্যক্রমের জন্য অস্ত্রশস্ত্রের উৎপাদন জরুরি হয়ে পড়ে।


Ancient Religion of Japan

শিন্তো ধর্মে তাদের ঈশ্বরের আদলে তৈরি কোনো মূর্তি বা ভাস্কর্য নেই। ধর্মটির উৎপত্তি কে করেছিল বা কীভাবে হয়েছিল সেই সম্পর্কেও বিশেষ কিছু জানা যায় না। এটি এমন এক ধর্ম যা প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া বহু যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে। প্রকৃতি ও বিশুদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধা ও নমনীয়তা শিন্তো ধর্মের মূল কথা। জাপানি শিন্তোতে নেই কোনো কঠোর নিয়ম এবং আচার-অনুষ্ঠান, বরং এটি একটি জীবনপদ্ধতি। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সাথে সততা ও বিশ্বস্ততার মতো গুণাবলীর উপর জোর দিতে শেখায় শিন্তো। শিন্তোর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে হলো "মাকোতো নো কোকোরা" তথা কলুষতা ও অরাজকতা থেকে মুক্তি লাভ করে স্বাধীন ও সুন্দর মনের অধিকারী হয়ে ওঠা। 


শিন্তো ধর্মের বিশ্বাসসমূহ

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে শিন্তো ধর্মে কোনো প্রতিষ্ঠাতা ও ঈশ্বরের মূর্তি নেই, তবে অনুসারীগণ কামিদের প্রচণ্ড ভক্তি করেন। এই কামি (Kami) হলো শিন্তো ধর্মের মূল আকর্ষণ। ধর্মটির অনুসারীদের বিশ্বাস ইজানাগি ও ইজানামি (Heaven & Earth) থেকে জাপানের অসংখ্য দ্বীপ ও কামির জন্ম।  



এখন কামির কথায় আসি। কামি হলো একপ্রকার দেবতা যারা বিভিন্ন জীব ও জড় পদার্থে বসবাস করে। এদের সংখ্যা আনুমানিক ৮ মিলিয়ন, যা জাপানে ইনফিনিটি সংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। শিন্তোকে বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় 'কামির পথ'। কামিরা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে, যেমন- পাহাড়-পর্বত, গাছপালা, নদী-নালা, আসবাবপত্র, এমনকি মানুষ ও পশুপাখিও। তাই প্রকৃতির সকল কিছুর প্রতি জাপানিরা শ্রদ্ধা ও যত্ন প্রকাশ করে, কারণ তারা কামিদের প্রতি রুদ্ধ মনোভাব দেখাতে চায় না বা তাদের কষ্ট দিতে চায় না।

Ancient Religion of Japan

তবে মজার ব্যাপার হলো, যদিও কামিদের দেবতা বা ঈশ্বরতুল্য গণ্য করা হয়, তারা সবসময় ভালো বা শুভ শক্তির পক্ষে থাকেন না। কিছু কিছু কামি অশুভ শক্তির প্রতীক। এরা মানুষের ক্ষতি করতে চায়। তাই এদের বিশুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন রকম ভোগ ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের রীতি রয়েছে শিন্তো ধর্মে। কামিরা অলৌকিক শক্তির অধিকারী। তাই তারা মানুষের কামনা-বাসনা পূরণে সক্ষম। এমনকি, প্রাকৃতিক ঘটনা, যেমন- বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ইত্যাদি কামিদের শক্তির প্রতিফলন বলে মনে করে জাপানিরা। কামিরা যদিও ভালো ও খারাপ দুই রকম হতে পারে, তবে ভালো কামির সংখ্যাই তুলনামূলক বেশি। 


Ancient Religion of Japan

বিশ্ববিখ্যাত অ্যানিমেটর হায়াও মিয়াজাকি তার অ্যানিমেগুলোতে চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন কামির উদাহরণ আমাদের সামনে ফুটিয়ে তুলেছেন। জাপানি সংস্কৃতিতে কামির প্রভাব যে অনেক তা আমরা এ থেকেই বুঝতে পারি। তার ১৯৯৭ সালের অ্যানিমে  প্রিন্সেস মনোনোকে-তে আমরা Forest God বা অরণ্যের কামির ঝলক দেখতে পাই। তার আরেকটি ছবি স্পিরিটেড অ্যাওয়ে-র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখা মেলে হাজারো স্পিরিট বা কামির। হায়াও মিয়াজাকি ছাড়া অন্য অ্যানিমেটররাও যুগ যুগ ধরে অ্যানিমেশন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কামিদের কেন্দ্র করে অনেক অ্যানিমে বানিয়েছেন। জেনে অবাক হবেন যে, যারা ঈশ্বরে বিশ্বাসী নয় বা শিন্তো ধর্ম অনুসরণ করে না, তারাও কামিদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। 



কামিদের খুশি করার জন্য শিন্তো ধর্মে হরেক রকম উৎসব পালিত হয়। তা নিয়ে একটু পরেই আলোচনা করা হবে। তবে তার আগে চলুন জেনে নেয়া যাক শিন্তোর চারটি মৌলিক ভিত নিয়ে।


১) পরিবার: ঐতিহ্য ও আচার-অনুষ্ঠানের মূল হচ্ছে পরিবার। তাই পরিবার গঠন ও এর নিয়মকানুন অবশ্যই গুরুত্বের সহিত দেখতে হবে। 


২) প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা: শিন্তো ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রকৃতি বেশ স্বর্গীয়। কামিরা বসবাস করে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানে। তাই প্রকৃতিকে যত্নের সহিত লালন করা বাঞ্ছনীয়।


৩) আচারের জন্য নিজেকে পরিশুদ্ধ করা: কামির পূজা করার স্থান হচ্ছে মন্দির। আর মন্দিরে প্রবেশের আগে সবাইকে আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে শুচি করতে হবে। শিন্তো ধর্মাবলম্বীদের সকলেই নিজেদের মানসিক ও আত্মিক শান্তি ও শুচির জন্য বছরে দুবার উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এ থেকেই বোঝা যায় শিন্তো ধর্মে বিশুদ্ধতার গুরুত্ব কতখানি। 


৪) মাতসুরি: দেবতা ও পৈতৃক আত্মাদের যথাযথ মর্যাদা দেয়া।


Ancient Religion of Japan


শিন্তো ধর্মের ইতিহাস

শিন্তো জাপানের সবচেয়ে পুরনো ধর্ম, কারণ বৌদ্ধধর্ম ও কনফুসিয়ানিজমের আগে শিন্তোই ছিল জাপানের একমাত্র ধর্ম। তাই জাপানে যখন নতুন নতুন ধর্মের আগমন ঘটে, তা শিন্তোর উপর বিরাট প্রভাব ফেলেছিলো। বলা যায়, জাপানিজদের জীবনযাপনে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল। সেই সময়ই আসলে শিন্তোর নামকরণ করা হয়, যাতে একে অন্যান্য ধর্ম থেকে আলাদা করা যায়। তখন থেকে জাপানের অনেকেই শিন্তো ও বৌদ্ধধর্মের সংমিশ্রণে জীবনচর্চা শুরু করে। তবে দুটো ধর্ম কিন্তু মোটেই একরকম নয়, বরং এদের নিয়মকানুনে ব্যাপক ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন- অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কোনো প্রচলনই ছিল না শিন্তো ধর্মে। বৌদ্ধধর্ম আসার পর জাপানিরা মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে শেখে। 




মেইজি যুগে (১৮৬৮-১৯১২) শিন্তো জাপানের রাষ্ট্রধর্ম হয়ে ওঠে। শিন্তোকে বৌদ্ধ ধর্ম থেকে আলাদা করার লক্ষ্যে সে সময়ের শাসকগণ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সেসবের মধ্যে অন্যতম জাপানি সম্রাটদের দেবত্ব প্রদান। শিন্তোর পুরাণে বলা হয়েছে, জাপানের প্রথম সম্রাট জিম্মু ছিলেন সূর্যদেবী অমতেরাসুর বংশধর। রাজতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী সকল সম্রাটরাও তাই দেবীর বংশধর বলে বিবেচিত হতেন। তাই জাপানের সকল সম্রাটকে কামির প্রতিনিধি বলে গণ্য করা হয়।


                                                                ************





































facebook

page

seo

google

blog

blogger

blogspot

Book

news

learn

press

media

find out

Literary Agents

literature

religion

economics

politics

world

bengali

bangladesh

dhaka

entertainment

Current affairs


current world


Ancient Religion of Japan

Japan

Ancient

Shinto

Post a Comment

0 Comments