ছোটবেলা থেকে আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে নিজের অজান্তে অনেক বদভ্যাস গড়ে ওঠে, সব সময় যা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখি না। তবে এসব অভ্যাস বিয়ের পরও চালিয়ে গেলে বিপদ। এতে সঙ্গীর সঙ্গে আপনার বোঝাপড়ায় ঝামেলা তৈরি হবে। অস্বাস্থ্যকর এসব অভ্যাস অনেক সময় বিচ্ছেদের কারণও হয়ে ওঠে। চলুন জেনে নিই তেমন কিছু অভ্যাস।
১. বিয়ের আগে যখন বাসায় ফিরতেন, তখন দরজা খোলার পরই হয়তো সোজা নিজের ঘরে চলে যেতেন। কিন্তু এখন সেটা চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। বিয়ের পর বাসার দরজা যদি আপনার স্ত্রী খুলে দেন, তাহলে তাঁকে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করুন। দরজা খোলার পরই একটা মিষ্টিহাসি দিয়ে তাঁকে জড়িয়েও ধরতে পারেন। এতে নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা বাড়বে।
২. কথা বলার সময় আগে হয়তো কারও দিকে তাকাতেন না। তবে বিয়ের পর এ বদভ্যাস পাল্টে ফেলুন। দিনের পর দিন সঙ্গীর মুখের দিকে না তাকিয়ে কথা বলে গেলে সে বিরক্ত হবে। হয়তো সারা দিন একসঙ্গে আছেন, তাই হয়তো এ দিকে ঠিকমতো খেয়াল করেন না। যত গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যেই থাকেন না কেন, কথা বলার সময় স্ত্রী বা স্বামীর দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। এতে সে মনে করবে, আপনি তাঁকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, দুজনের মধ্যে ভালোবাসাও বাড়বে।
৩. উদ্যাপনের অভ্যাস নেই! তাহলে তো ঘোর বিপদে পড়তে যাচ্ছেন আপনি। জীবনের ছোট-বড় যেকোনো সাফল্য বা বিশেষ দিন উদ্যাপনের অভ্যাস করুন। বিয়ের পর এ অভ্যাস আপনার দাম্পত্য জীবন সুখের হতে সাহায্য করবে। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, শুভ সংবাদ, সাফল্য, পদোন্নতির মতো বিষয়গুলোতে একসঙ্গে উদ্যাপনের অভ্যাস করুন।
৪. অন্যের কাছে সঙ্গী সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলবেন না। বিয়ের পর এ অভ্যাস আপনাকে বিচ্ছেদের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আবার এটাও সত্য যে আমরা নিজেদের নানা বিষয় বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করি। সঙ্গীকে নিয়ে যদি কারও সঙ্গে আলোচনা করতেই হয়, সেখানে তাঁর সম্পর্কে অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করবেন না।
৫. সঙ্গীকে অসম্মান করছেন না তো, বিশেষ করে সন্তানদের সামনে? সন্তানদের সামনে সঙ্গীর প্রতি কেমন ব্যবহার করব, সে বিষয়ে অনেক সময় আমরা ভুলে যাই। মনে রাখবেন, সন্তানদের সামনে মা–বাবা একজন আরেকজনকে অসম্মান করলে সেই পরিবারে বন্ধন দৃঢ় হওয়া কঠিন। তাই সন্তানদের সামনে নিজেদের কোনো বিষয় নিয়ে অন্যজনকে হেয় করে কথা বলা যাবে না।
৬. সঙ্গীকে স্পর্শ করেন কম? এটাও একটা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনকে দিনের পর দিন না ছুঁয়ে থাকলে দাম্পত্যের জন্য সেটা মোটেও সুখকর নয়। বরং আপনার একটু খুনসুটি, দুষ্টুমি, কথা বলতে বলতে একটু হাত ধরা—এসব আপনার সঙ্গী আশা করে। স্বামী ও স্ত্রী দুজনের বেলাতেই এটা সত্য।
৭. কথা বলার সময় থামিয়ে দেওয়ার অভ্যাস খুব খারাপ। আপনার সঙ্গী যখন কথা বলছে, মাঝপথে তাঁকে থামিয়ে দেবেন না। তাঁকে পুরো কথা শেষ করতে দিন। এরপর নিজের বক্তব্য তুলে ধরুন। সব যখন আপনি নিজেই বলতে চাইবেন, তখন আপনার প্রতি সঙ্গীর একটা বিরক্তিকর ধারণা তৈরি হবে, যা দীর্ঘ দাম্পত্যে ছন্দপতন ঘটায়। তাই নিজেও বলুন, সঙ্গীর কথাও শুনুন।
"দিব্যসাধনা" এক আধ্যাত্মিক জাগরণের প্ল্যাটফর্ম। আমরা অনুসন্ধান করি আত্মার পথ, যেখানে মিলিত হয় তন্ত্র, যোগ, দর্শন, শাস্ত্র ও সাধনা। আমাদের লক্ষ্য—গবেষণানির্ভর ও হৃদয়গ্রাহী কনটেন্টের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চর্চাকে গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের আবরণ থেকে মুক্ত করা।
এখানে আপনি পাবেন:
যোগ ও তন্ত্রের অন্তর্জ্ঞানে ভরপুর প্রবন্ধ, দেবী ও সাধনার প্রতীকতত্ত্ব, সাধকদের জীবন ও উপদেশ এবং আত্মজিজ্ঞাসা ও রূপান্তরের দার্শনিক আলোচনাসমূহ।
আমরা বিশ্বাস করি—আত্মার পথে হাঁটার চেয়ে বড় সাধনা আর নেই। আপনিও সেই পথের যাত্রী হলে, দিব্যসাধনা আপনাকে স্বাগত জানায়।
যোগাযোগ:
whatsapp: +8801811760600
ratonk2000@gmail.com
0 Comments