The Symbolic Characters of Mahabharata. In Bengali. Mahabharata characters
| Mahabharata characters |
মহাভারত এর প্রতিকী চরিতসমূহঃ
মানব জীবনের ঘাত প্রতিঘাত, আশা হতাশা, ধর্ম অধর্ম- সেই সব কিছুর চরিত্রায়নই হলো মহাভারত।
*#কুরুক্ষেত্র হচ্ছে মানুষের চিন্তার চারণভূমি। সেই চিন্তার চারণভূমিতে, প্রতিদিন লোভের সঙ্গে ত্যাগের সংঘাত, সত্যের সঙ্গে মিথ্যের সংঘাত ঘটছে।
কৌরবরা হচ্ছে মানুষের যত ধ্বংসাত্মক গুণাবলী। আর পান্ডবরা হচ্ছে মানুষের যত গঠনাত্মক গুণাবলী।
*#কৌরবদের_মধ্যেঃ
*দুর্যোধন হচ্ছে আমাদের লোভ আর দম্ভ।
*দুঃশাসন হচ্ছে আমাদের কামনা আর লাম্পট্য।
*ধৃতরাষ্ট্র আমাদের অন্ধ স্নেহ, অন্ধ ভালোবাসা।
*শকুনি আমাদের কুটিলতা
*কর্ণ আমাদের অভিমান
*ভীষ্ম আমাদের গর্ব আর প্রতিজ্ঞা
*দ্রোণাচার্য্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা
*শিখন্ডি আমাদের দুর্বলতা
*কর্ণের রথের "চাকা" বসে যাওয়া আমাদের দুর্ভাগ্য
*দেহতত্ত্বের বিশ্লেষনে পাঁচ পান্ডবদের স্থান এবং তাঁদের নামের গুরুত্বঃ
*#সহদেবঃ
'সহ' হচ্ছে সহিত আর 'দেব' হচ্ছে যে খেলা করে । অর্থাৎ দেবের সহিত যে খেলা করে সে সহদেব । সহদেব হলো পৃথ্বীতত্ত্ব , যার গুন - শব্দ , স্পর্শ , রূপ , রস ও গন্ধ । এই পাঁচ গুনের সঙ্গেই জীবের ঘনিষ্ঠতা বেশি । এই ঘনিষ্ঠতার জন্যই শরীরাভিমান প্রবল । সহদেব কে পঞ্চভূতের মধ্যে ক্ষিতি অর্থাৎ পৃথিবীর সাথে তুলনা করা হয় । ছয় জ্ঞান সাধনার মধ্যে সহদেবকে ' শম ' এর সাথে তুলনা করা হয় ।
লৌকিক ব্যাপার হতে মনকে নিবৃত্তি করা বা দূরে সরিয়ে রাখাই হলো ' শম ' ।
ষটচক্রের মধ্যে মূলাধার চক্রে স্থান হয় সহদেবের ।
*#নকুলঃ
নকুল হলো রসতত্ত্ব । যার গুন - শব্দ , স্পর্শ , রূপ ও রস । যত প্রকারের রস আছে , তা ভোগ করে শেষ করতে পারা যায় না , অর্থাৎ ভোগের দ্বারা রসের কুল বা সীমা পাওয়া যায় না ; এই জন্য রসতত্ত্বের নাম নকুল । নকুল কে পঞ্চতত্ত্বের মধ্যে অপ্ অর্থাৎ জলের সাথে তুলনা করা হয় ।
ছয় জ্ঞান সাধনার মধ্যে নকুল কে ' দম ' এর সাথে তুলনা করা হয় ।
ভোগ্য বস্তুর প্রতি আসক্তি না রাখা বা নিজের পঞ্চইন্দ্রিয়কে দমিয়ে রাখাই হল ' দম ' ।
ষটচক্রের মধ্যে স্বাধীষ্ঠান চক্রে স্থান হয় নকুলের ।
*#অর্জুনঃ
অ + রজ্জু + না = যিনি পাশমূক্ত নন ; অর্থাৎ সংসারবদ্ধ জীবাবস্থার নাম অর্জুন । সাধনমার্গের সাধককেই অর্জুন বলা হয় । ধন = বিভূতি , অর্থাৎ জন্ম , মৃত্যু , সুখ , দূঃখ , ক্ষুধা ও তৃষ্ণা যিনি জয় করেছেন ; বিভূতি বিজয়ী যিনি , তিনিই ধনঞ্জয় ।
অর্জুন হল তেজতত্ত্ব , যার গুন - শব্দ , স্পর্শ ও রূপ । বায়ুও তেজ এর দ্বারা বইতে থাকে । কাজেই যা কিছু শক্তির বিকাশ , তা তেজের দ্বারাই হয় । পঞ্চভূতের মধ্যে তেজ অর্থাৎ অগ্নিই হল অর্জুন । ছয় জ্ঞান সাধনার মধ্যে অর্জুনকে ' তিতিক্ষা ' এর সাথে তুলনা করা হয় । শীত হোক কিংবা উষ্ণতা যেকোনো আবহাওয়া সহ্য করে মন স্থির রাখাই হলো ' তিতিক্ষা ' ।
ষটক্রের মধ্যে মণিপুর চক্রে স্থান হয় অর্জুনের ।
ষটক্রের মধ্যে মণিপুর চক্রে স্থান হয় অর্জুনের ।
*#ভীমঃ
ভীমের আরেক নাম ' বৃকোদর ' । 'বৃক' হচ্ছে অগ্নি আর 'উদর' হচ্ছে পেট ; অগ্নি উদরে আছে বলে ভীমের নাম হয়েছে বৃকোদর । বৃকোদর হল ' বায়ুতত্ত্ব ' , যার গুন - শব্দ ও স্পর্শ । অগ্নি বায়ু হতে উৎপন্ন হয় , আবার বায়ুতেই লয় হয় ; এজন্য বলা যায় যে বায়ুর মধ্যে অগ্নি রয়েছে ।
পঞ্চভূতের মধ্যে ভীম হল মরুৎ বা ' বায়ুতত্ত্ব ' ।
ছয় জ্ঞান সাধনার মধ্যে ভীমকে ' উপরতি ' এর সাথে তুলনা করা হয় । জ্ঞান লাভ করবার প্রতিবন্ধক কর্মকে পরিত্যাগ করাই হলো ' উপরতি ' ।
ষটচক্রের মধ্যে অনাহত চক্রে স্থান হয় ভীমের ।
*#যুধিষ্ঠিরঃ
যুদ্ধে যে স্থির অর্থাৎ যুদ্ধ করে যাঁকে টলাতে পারা যায় না তিনিই যুধিষ্ঠির । পঞ্চভূতের মধ্যে যুধিষ্ঠির হলেন ' ব্যোম ' বা আকাশতত্ত্ব । যার গুণ হলো শব্দ । ছয় জ্ঞান সাধনার মধ্যে যুধিষ্ঠিরকে ' শ্রদ্ধা ' এর সাথে তুলনা করা হয় । ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস বা আস্তিকতাই ' শ্রদ্ধা ' ।
ষটচক্রের মধ্যে বিশুদ্ধ চক্রে স্থান হয় যুধিষ্ঠিরের ।
*#শ্রীকৃষ্ণঃ
ইনি পান্ডব না হলেও , পান্ডবদের পথপ্রদর্শক । এনাকে ' হৃষীকেশ ' ও বলা হয় । হৃষীকা = ইন্দ্রিয়সমূহ , ঈশ = নিয়ন্তা ; যিনি ইন্দ্রিয়ের নিয়ন্তা । যাঁর জোরে ইন্দ্রিয়গুলো নিজের নিজের কাজ করে তিনিই হৃষীকেশ । শ্রী কৃষ্ণ হলেন চৈতন্য - তত্ত্ব ; যার গুন হল - সৎ - চিৎ - আনন্দ ।
ছয় জ্ঞান সাধনার মধ্যে শ্রীকৃষ্ণকে ' সমাধান ' এর সাথে তুলনা করা হয় ।
নিদ্রা ও আলস্য পরিত্যাগ করে ঈশ্বরের প্রতি চিত্তের একাগ্রতাই ' সমাধান ' ।
ষটচক্রের মধ্যে আজ্ঞা চক্রে স্থান হয় শ্রী কৃষ্ণের ।
Mahabharata characters
| Mahabharata characters |
অর্থাৎ পান্ডবদের মধ্যে-
*#যুধিষ্ঠির আমাদের সত্য, ধর্ম আর ত্যাগ
*#ভীম আমাদের পৌরুষত্ব আর বীরত্ব
*#অর্জুন আমাদের নিষ্ঠা আর শ্রম
*#অভিমন্যু আমাদের সাহস ও যৌবন শক্তি
*#বিদূর আমাদের বিবেক
*#কৃষ্ণ আমাদের আত্মা। যা পরমাত্মার অংশ। যা আমাদেরকে আলোর পথে চালিত করে।
*#দ্রৌপদী আমাদের আত্মার সন্মান।
*#দ্রৌপদী একসাথে পাঁচ ভাইয়ের স্ত্রী; কারন যারা ধর্ম আর পৌরুষত্বের পূজা করে, তাদের সকলেরই আত্মার সম্মান থাকে। আত্মার সম্মান সব বীরেরই প্রিয়তমা। পান্ডবরা ধার্মিক আর বীর, তাই তাদের সকলেরই আত্মার সম্মান বা দ্রৌপদী আছে।
*#দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ আমাদের আত্মার লাঞ্ছনা।
*#কুন্তীর কুমারী মাতৃত্ব হচ্ছে সমাজের প্রথার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
মহাভারতে, মানুষের সব দোষ আর গুনগুলোকে, এক একটা চরিত্র বানিয়ে গল্পের আকার দেওয়া হয়েছে।
অর্জুনের উদ্দেশ্যে শ্রীকৃষ্ণের গীতার বাণী জীবনের দর্শনকে, টুকরো টুকরো করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মানুষ যদি মনুষত্বে উত্তীর্ণ হতে চায়- তাহলে তাকে পান্ডব হয়ে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয়ী হতে হবে।
*#কলমে-
রতন কর্মকার Mahabharata characters
May God Bless You Mr. Ratan. A lot of heartfelt gratitude for you.
page
seo
blog
blogger
blogspot
Book
news
learn
press
media
find out
Literary Agents
literature
religion
economics
politics
world
bengali
bangladesh
dhaka
entertainment
Mahabharata characters
mahabharat
mahabharat 2013
mahabharat katha
0 Comments