If this happens
| If this happens |
যদি এমন হয়....
একদিন সকালবেলা উঠে দেখলেন, ফেসবুক নেই! বন্ধুদের ফোন করার জন্য সেলফোন হাতে নিয়ে দেখলেন ফোনেও নেটওয়ার্ক নেই!
ইতিউতি করে টিভি অন করে দেখলেন ব্রেকিং নিউজ...
* "ফেসবুক কতৃপক্ষ চিরদিনের জন্য ফেসবুক বন্ধ করে দিয়েছে"!
* "এখন থেকে আর সেলফোন সার্ভিস থাকবেনা"!!
কী করবেন তখন?
ঢাকার রাস্তায় মিছিল করলেন "জাকারবার্গের ফাঁসি চাই".....কিন্তু ফেসবুক আর ফিরে এলো না।
তাহলে কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ, প্রতিবাদ, মিছিল, সেফুদা, রোদ্দুর রায়, সেলফি, খিস্তি খেউড়, তাহেরি হুজুর, মৃণাল কান্তি, উগ্র হিন্দুত্ব, মোদির ভাই, কাউয়া, 'আমার মা, বন্দী থাকতে দেবোনা', লুংগী গামছা বেচা, চিনি দিয়ে বানানো সুন্দরবনের খাটি মধু, যাত্রাবাড়ীতে তৈরী যশোরের জামতলার রসগোল্লা, ইলিশ পাংগাস, পাঁচমিশালি, শুটকি বেচা সমস্ত কিছুই বন্ধ হয়ে যাবে!
ভাবতেই পারছি না।
এই যে এত বিরতিহীন বিতর্ক, কাব্য, সংস্কৃতি, অকারণ গালাগালি খিস্তি, ভালোবাসা, আপু, বুন্নু, দাদাভাই, শুভ সকাল, পহেলা বৈশাখ পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ছবি, সকালের গোলাপ, রাতের আকাশ... এসব কোথায় যাবে?
...... সবাইকে চলে যেতে হবে আগের যুগে। লেখা লিখে জমিয়ে রাখা, পত্রিকা -লিটল ম্যাগাজিনে পাঠিয়ে মাসের পর মাস অপেক্ষা, বই বেরোলে মুখে মুখে মানুষের কাছে যতটা ছড়ায়, পাঠকের উপর ভরসা রাখা, ফেসবুকে যার পাঁচ হাজার বন্ধু আর হাজার হাজার ফলোয়ার্স ছিলো তিনি খুঁজে খুঁজেও পনেরোজন বন্ধু পাচ্ছেন না!
If this happens...
অথবা, এমন একটা পৃথিবী এলো, যেখানে গুগল পর্যন্ত নেই। হতেই তো পারে, গুগল বা ফেসবুক তো আর মহাকাল নয়। অবিনশ্বর নয়। মুছে যেতেই পারে!
সেদিন?
কী আর করা!
সকাল বেলা বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে হাটে, বাজারে যেয়ে দেখেশুনে দরদাম করে কেনা....
আহ কী সুন্দর অনুভূতি!
কয়েক বছরের মধ্যে এর কোনটাই থাকবে না।বডিতে একটা টাট্টু মতো আঁকা থাকবে,সেটা দিয়েই সব কাজ হবে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ যা ভাবে তাই বাস্তবায়ন করে বিজ্ঞানীরা। ফেসবুক নেই হয়ে গেলে অনেক দিক দিয়ে ভাল যেমন হবে তেমন অনেক ক্ষতিও হবে । কেবল মাত্র ফেসবুকের কারণে বর্তমানে অনেক অনেক ছোট ছোট ব্যবসা টিকে আছে । ফেসবুক চলে যাওয়া মানে সেই সব ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে । ছোট ব্যবসা গুলোর সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে ক্রেতা খুজে পাওয়া, ফেসবুকের কারণে সেটা সহজ হচ্ছে ।
If this happens...
রেস্টুরেসন্ট বিজনেসে ধস নামবে, পর্যটন ব্যবসায়ে ধস নামবে। বর্তমানে রেস্টুরেন্ট আর পর্যটন গুলো এতো এতো ব্যবসা করে কারণ পাব্লিক সেখানে গিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়, সেটা দেখে অন্য জন ভাবে ও গিয়েছে আমারও যাওয়া লাগবে আমারও ছবি তুলে পোস্ট দেওয়া লাগবে। ফেসবুক না থাকলে এই প্রতিযোগিতা থাকবে না, তখন সেখানে যাওয়ার আগ্রহও কমে যাবে মানুষের ভেতরে । ফটোগ্রাফার গুলো না খেয়ে মরবে ! এতো টাকা খরচ করে কেউ আর ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করবে না । যদি মানুষকে দেখানোই না গেল তাহলে পাবলিক এতো টাকা দিয়ে ছবি কেন তুলবে ! অনলাইন ব্যবসা ফেসবুকের জন্য দ্রুত প্রসারিত হয়েছে সত্য কিন্তু ফেসবুকের আগেও পর্যটন ব্যবসা রমরমা ছিলো। আর ছবি তোলা যাদের নেশা তাদের ছবি তুলে সড়কদ্বীপে টানিয়ে দেবে! ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক ছাড়া সব অচল হয়ে যাবে নিমিষেই। যে সুবিধা কল্পনা করছেন সেটার থেকে বহুগুন বেশী অসুবিধা দেখা যাবে। কোনো কিছুইতেই খুব বেশী সময় অপূর্ণতা থাকেনা। সময়, পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে সবই মানিয়ে যাবে। সাময়ীক অসুবিধা অবশ্যই হবে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবই মানিয়ে যাবে। আমি নিয়মিত এইচ বিও, ডিসকভারী, ন্যাশনাল জিওগ্রাফী, এনিমেল প্ল্যানেট, আল-জাজিরা চ্যানেলগুলো দেখতাম। ক্লীনফিডের অযুহাতে সেইসব চ্যানেলগুলো সরকার বন্ধ করে দিয়েছে-আমি এখন বইয়ে মুখ গুজী থাকি। পরিস্থিতি ও সময়ের প্রয়োজনে এভাবেই বিকল্প বের হয়ে আসে। মানুষের অভিযোজন ক্ষমতা ভালো। যে কোন পরিস্থিতিতে আমরা খাপ খাইয়ে নেই। অনেক হুজুগে জিনিস থাকবে না। নতুন হুজুগে জিনিস আসবে। একমত। ঠিকই আমরা সময় ও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলবো। আমাদের মতু পুরনোদের তেমন কোনো সমস্যা হবে না। প্রথম প্রথম একটু খালি খালি লাগবে, এতটুকুই। এমন হলে অন্তত একটা জিনিস থেকে শান্তিতে থাকবো তা হলো কিছু বকলম গোঁয়ার ধর্মকানা দলকানার অসহনীয় কথাবার্তা ও আচরন থেকে মুক্তি। কিছু দিনের জন্য বন্ধ রাখলে ভালই হতো। বাস্তব জীবনে অনেক লেখালেখির ভাবনাগুলো সম্পূর্ণ করা যেত। কিছু যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়া যেত। মোদ্দাকথা, এইসব যান্ত্রিক একঘুয়েমি থেকে একটা চেঞ্জ দরকার।
***************
If this happens
facebook
page
seo
google
blog
blogger
blogspot
Book
news
learn
press
media
find out
Literary Agents
literature
religion
economics
politics
world
bengali
bangladesh
dhaka
entertainment
0 Comments