Bheeshma Mahabharata
Bhishma Pitamaha
ভীষ্মের শরশয্যার ইতিহাস ও যৌগিক ব্যাখ্যা
***#মহাভারতের যুদ্ধের শেষ ভাগে ভীষ্ম শরশয্যায় দীর্ঘদিন শায়িত ছিলেন । শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শেই অর্জুন যুদ্ধের দশমদিনে সূর্যাস্তের কিছু পূর্বে শিখণ্ডীকে রথের সামনে বসিয়ে ভীষ্মের সম্মুখে আসেন
এবং শরনিক্ষেপে ভীষ্মের পতন ঘটান।
*#অর্জুনের শর নিক্ষেপের ক্ষিপ্রতা এতই তীব্র ছিল যে- ভীষ্মের শরীরের এক
ইঞ্চি পরিমাণ জায়গাও অবিদ্ধ ছিল না। দিনের শেষে ভীষ্ম রথ থেকে পড়ে যান। কিন্তু অসংখ্য শরবিদ্ধ থাকার কারণে ভীষ্মর শরীর মাটি স্পর্শ করলো না।
ফলে ইনি শরশয্যায় থেকে গেলেন।
*#এর আটদিন পর যুদ্ধের শেষ হলে-যুধিষ্ঠির রাজ্যলাভ করে অভিষিক্ত হলেন। এই সময় কৃষ্ণের পরামর্শে যুধিষ্ঠির শরশয্যায় শায়িত ভীষ্মের কাছে আসেন। সেখানে কৃষ্ণের অনুরোধে ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে বিবিধ পরামর্শ দেন।
*#শ্ৰীকৃষ্ণকে দেখে ভীষ্ম বললেন, " হে জনার্দন, আমি পূর্ব জন্মে এমন কি পাপ করেছিলাম যে এই জন্মে এত বড় শাস্তি এত কষ্ট আমাকে ভোগ করতে হচ্ছে ?"
ভগবান বললেন, " আপনি তো নিজেই পূর্ব জন্মের কথা স্মরন করতে পারেন, তাহলে আপনি নিজেই দেখুন না আপনি পূর্ব জন্মে কি পাপ করেছিলেন?" ভীষ্ম বললেন, " আমি তো দেখতে দেখতে গত ১০০ জনমের কর্ম দেখে ফেলেছি, কিন্তু এই ১০০ জনমের মধ্যে আমি এমন কোনো কর্ম করিনি যেটাতে আমি এত বড় শাস্তি পেতে পারি । "
*#ভগবান বললেন, " আপনি কৃপা করে এই ১০০ জনমের ঠিক একটি জনম আগে দেখুন (অর্থাৎ ১০১ নং জনম), উওর আপনি পেয়ে যাবেন।" তখন পিতামহ ভীষ্ম চোখ বন্ধ করে ধ্যান পূর্বক দেখতে লাগলেন- ঐ জনমে তিনি একজন খুবই ধার্মিক রাজা ছিলেন। একদিন তিনি বিশাল সৈন্যদল নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথের মাঝে একটি সাপ এসে তাদের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।এক সৈনিক এসে বললো, " মহারাজ, একটি সাপ রাস্তার মাঝে বসে আছে, কি করবো? " রাজা বললেন, " তুমি সাপটিকে একটি লাকড়িতে বেঁধে পাশের জঙ্গলে ফেলে দাও।" সৈনিক তাই করলো, কিন্তু সাপটি জঙ্গলে একটি বিশাল কাঁটার ঝোপের মধ্যে আটকে গিয়ে প্রচন্ড যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে অবশেষে পাঁচদিন পর মারা গেল।
*#পিতামহ ভীষ্ম তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে বললেন, দেখলাম আমার পাপ কর্ম, কিন্তু আমিতো সাপটিকে বাঁচানোর জন্য জঙ্গলে ফেলেদিয়েছিলাম, নাহলে তো সাপটি আমার রথের চাকার নীচে চাপা পরেই মারা যেতো।" ভগবান বললেন, " কিন্তু আপনিতো ঐ সাপটির কি পরিনতি হলো তা একবারও ফিরে দেখলেন না বা ঐ সাপটিকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেন নি, তাই আজ আপনার এই পরিনাম। অথচ আপনার পুন্য কর্ম এত বেশী ছিল যে গত ১০০ জনমেও আপনি কোন পাপের ফল ভোগ করেন নি। "
*#শরশয্যায় মোট আটান্ন দিন থাকার পর ভীষ্ম মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে যোগযুক্ত হয়ে ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেন।
এই শরশয্যা আসলে সংসার শরশয্যা । সংসার তাে প্রতিনিয়তই আমাদের বিদ্ধ করছে ।
ভীষ্ম দক্ষিণায়ণে শরবিদ্ধ হয়েছিলেন কিন্তু উত্তরায়ণ না হলে প্রাণত্যাগ করবেন না বলে অপেক্ষা করতে লাগলেন । অর্থাৎ তার বক্তব্য এই যে , শীতকালে মৃত্যু হলে স্বর্গপ্রাপ্তি ঘটবে না । গ্রীষ্মকালে মৃত্যু হলে স্বর্গ প্রাপ্তি ঘটবে । তা হলে পৃথিবীতে কোন সাধকের কি শীতকালে মৃত্যু হয়নি? যদি হয়ে থাকে তবে কি তাঁরা নরকে গিয়েছেন?
এই সঙ্গত প্রশ্ন অনেকের মনেই আসতে পারে। দক্ষিণায়ণে থাকা কালে নিশ্চয়ই বহু সাধকের মৃত্যু হয়েছে । সুতরাং তারা নরকে গেছেন এমন হতে পারে না । আসলে এ গল্পও একটি রূপক গল্প । দক্ষিণায়ণ অর্থ অবতরণ। মানুষের সহস্রারের ব্রক্ষ্মরন্ধ্র
থেকে মূলাধারে অবতরণ। অর্থাৎ এটি হল সংসার জীবন যাপনের পথে মােক্ষের বিপরীত দিকের পথ অর্থাৎ অবতরণের পথ । হিন্দুদের ক্ষেত্রে এই অবতরণের পথ মূলত চতুরাশ্রমের গার্হস্থ্যশ্রমের পথ। ব্রহ্মচর্যাশ্রমে জীবনকে সংসার এবং মােক্ষ দুইয়ের জন্যই তৈরি করা হয় । গার্হস্থ্যশ্রমের সংসার জীবন যাপন করা হয় । বানপ্রস্থাশ্রমে ধীরে ধীরে সংসার ত্যাগের প্রস্তুতি হয় । সন্নাসাশ্রমে সংসার থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া হয় ।
Bheeshma Mahabharata
*#কুলকুণ্ডলিনীর অবতরণের পথ সংসারের পথ । উত্তরণের পথ অর্থাৎ ব্রহ্মমুখী হবার পথ, মােক্ষের পথ । ভীষ্ম উত্তরায়ণে মৃত্যুর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই অর্থে যে , সংসার জীবনের চতুর্থাশ্রম যথাযথ পালনের পর তবে তিনি দেহ রক্ষা করবেন । অর্থাৎ কুলকুণ্ডলিনীকে ব্রক্ষ্মরন্ধ্রে নিয়ে গিয়ে প্রাণত্যাগ করবেন । এই দক্ষিণায়ণ ও উত্তরায়ণ হিন্দুদের চতুরাশ্রমের অঙ্গীভূত অর্থাৎ সংসার জীবনের কাল ও মােক্ষলাভের কাল । সূর্যের দক্ষিণায়ন বা উত্তরায়ণের সঙ্গে তার কোন যােগ নেই । কুলকুণ্ডলিনীর বিপরীত চলনই উত্তরায়ণ । মানুষের মস্তিষ্ক হল দেহের উত্তর দিক । কুলকুণ্ডলিনীর তেজই সূর্য ।
*#উত্তরায়ণের যে সুর্যের কথা ভীষ্ম বলেছিলেন তা প্রাণসূর্য অর্থাৎ কুলকুণ্ডলিনী । সংসারের পথে এর বিপরীত গতিই উওরায়ণ অর্থাৎ সংসারের উল্টোপথে প্রাণশক্তিকে প্রবাহিত করা ।
কলমে-
রতন কর্মকার Bheeshma Mahabharata
Thank you Mr Ratan. May God Bless You.
bhishma
bheeshma mahabharata
0 Comments